ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ে বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা শুরু

দেশজুড়ে ডেস্ক :

আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসল বিজুর ফুল। আর এই ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী পাহাড়ের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের সবচেয়ে বড় সামাজিক অনুষ্ঠান বৈসাবির মূল আনুষ্ঠানিকতা।

- Advertisement -

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এই সামাজিক আয়োজনে ব্যস্ত এখন শহর, নগর আর পাহাড়ি পল্লীগুলো।

- Advertisement -google news follower

বান্দরবানে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের সাঙ্গু নদীতে ‘মা’ গঙ্গাকে ফুল নিবেদনের মধ্যদিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ সামাজিক উৎসব বিঝু ও বিষু উৎসব শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সকালে সাঙ্গু নদীতে ‘মা’ গঙ্গাকে এ ফুল নিবেদন করে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের হাজারো শিশু- নারী পুরুষ।

- Advertisement -islamibank

এদিকে সকালে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসিয়ে নতুন বছরের জন্য শুভকামনা জানিয়ে গঙ্গা দেবীর নিকট প্রার্থনা করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি সম্প্রদায়ের মধ্যে শুধু বম, লুসাই, পাংখোয়া তিনটি সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য সকল সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন নামে এই বৃহৎ সামাজিক উৎসব প্রতিবছর পালন করে থেকে।

চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় ১২ এপ্রিল ফুল দিয়ে নদীতে পূজা, শেষে ঘরদোর ফুল দিয়ে সাজায়, ১৩ এপ্রিল ঘরে ঘরে বিভিন্ন খানাপিনার আয়োজন করা হয়। এসময় একে অপরের বাড়িতে নিমন্ত্রণ ছাড়াই যেতে হয়। যদিও বা আধুনিককালে এখন অনেকে একে অপরকে নিমন্ত্রণ করে থাকে।

১৪ এপ্রিল বয়োজ্যেষ্ঠদেরকে গোসল করিয়ে তরুণ-তরুণরা আর্শীবাদ প্রার্থনা করে। উন্নত মানের খানাপিনার আয়োজন করে ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজন, এলাকার মুরুব্বী, বয়োজ্যেষ্ঠদেরকে ঘরে এনে খাওয়ানো হয়। বাড়িতে ভিক্ষু-সংঘকে ফাং করে বাড়ির লোকজনের মঙ্গলের জন্য মঙ্গল সুত্র শ্রবণ করে।

হ্যাপী চাকমা বলেন, প্রতিবছর ১২ এপ্রিল পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো, গতবছর ভালো ছিলাম, আগামী বছরও ভালো থাকার আর্শীবাদ প্রার্থনা করে জল বুদ্ধ ও মা গঙ্গাকে ফুল দিয়ে পূজা করি সাঙ্গু নদীতে। এসময় সকলের মঙ্গল কামনা করি।

সুচিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, নদীতে ফুল দিয়ে পূজা করা আমাদের ঐতিহ্য। প্রতিবছর ১২ এপ্রিল তিন পার্বত্য জেলায় ১১টি সম্প্রদায় উৎসব মুখর পরিবেশে বিষু উৎসব পালন করে থাকে।

জল বুদ্ধকে, ‘মা’ গঙ্গাকে ফুল দিয়ে পূজা করে নিজের, পরিবারের তথা সকলের মঙ্গল কামনা করে নদীতে ফুল নিবেদন করে।

এদিকে, প্রতিটি ফোঁটা-ই হোক শান্তির দুত, পৃথিবী হোক শান্তিময় জলধারায়’ এই স্লোগানে আগামী শনিবার থেকে চারদিন ব্যাপী বান্দরবান পাহাড়ী অঞ্চলে শুরু হচ্ছে জলকেলী উৎসব বা মাহা: সাংগ্রাই পোয়ে:।

বুধবার স্থানীয় রেস্টুরেন্টের এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি মংমংসিং মারমা ও সাধারণ সম্পাদক উক্যসিং মারমা।

এবার বান্দরবানের সার্বিক প্রেক্ষাপটে এবারের বিঝু, বিষু, সাংগ্রাইং, বৈসু একটু ভিন্ন। গত ২ এপ্রিল ও ৩ এপ্রিল রুমা ও থানচি তে কেএনএফ কর্তৃক ব্যাংক ডাকাতি অস্ত্রলুটের ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর সাোড়াশি অভিযান চলছে পাহাড় জুড়ে।

সেজন্য রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি দুর্গম এলাকাগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ কারণে বৈসাবি উৎসব আর তেমন উৎসবমুখর পরিবেশে উৎসব পালন করা হচ্ছে না।

রাঙামাটির স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, ফুল ভাসানোর মাধ্যমে সম্প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। সামনের বছর যাতে সকলের ভালো কাটে, সুস্থভাবে কাটে এই প্রার্থনায় ফুল ভাসানো হয়।

জেএন/পিআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@joynewsbd.com ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ

×KSRM