বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়: কোবিন্দকে প্রধানমন্ত্রী

0

বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয় এবং এখানে সবার সমান অধিকার রয়েছে বলে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই অঞ্চলে এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা অব্যাহত রাখতে দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে তিনি সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য রামনাথ কোবিন্দের অবস্থানস্থল হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে পৌঁছান। ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আল উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্দির-মণ্ডপে হামলার যেসব ঘটনা ঘটেছে, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, আমাদের দেশে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে এসেছিলেন। মুজিব চিরন্তন আয়োজনকে তিনি তিনি সম্মানিত করেছেন। এবার বিজয়ের ৫০ বছরের এই সময়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি এসেও আমাদের সম্মানিত করেছেন। এ জন্য আমরা আনন্দিত।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের রাষ্ট্রপতিকে আমরা বলেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সাফল্য অভাবনীয়। সরকার দেশের অনেক উন্নয়ন করছে। এখানে একটি বড় দিক হচ্ছে, শুধু বাংলাদেশ নয়; অত্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভারতের রাষ্ট্রপতিকে বলেছি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ সবসময় একে অন্যকে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুলে ধরেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে এই সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার কারণেই অত্র এলাকায় শান্তি বিরাজ করছে। দুই দেশের সুসম্পর্ক অনেক দূর যাবে। আমাদের লক্ষ্য দারিদ্র্য দূর করা। দারিদ্র্য বিমোচনসহ আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে দুই দেশের আরও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর ভারতের ওই সময়কার ইন্দিরা গান্ধী সরকার বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের আশ্রয় দিয়েছিল, সহায়তা দিয়েছিল। এ প্রসঙ্গের উল্লেখ করেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃতজ্ঞতা জানান ভারত সরকারের প্রতি। এ সময় বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করায় ভারতের রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন স্থানে চলমান বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশন নিয়েও ভারতের রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী দিবস ও স্বাধীনতা সড়কের কথাও উল্লেখ করা করা হয়েছে।

গত মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে আম পাঠানো হয়েছিল ভারতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেই আম মিষ্টি ও সুস্বাদু বলে বৈঠকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। আম পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। আগামী মৌসুমে আরও বেশি আম পাঠানোর অনুরোধও করেছেন।

ভারতের রাষ্ট্রপতি তার নিজের রাষ্ট্রপতি ভবনে তৈরি করা মিষ্টি, কেক ও বিস্কুট নিয়ে এসেছেন উপহার হিসেবে। এগুলো তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিজ হাতে গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে বুধবার সকালে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের আয়োজনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান ভারতের রাষ্ট্রপতি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সেখানে ভারতীয় রাষ্ট্রপতিকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বিজয় দিবসে বাংলাদেশের উদযাপনে সঙ্গী হবেন রাম নাথ কোবিন্দ। সফর শেষে শুক্রবার তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...