এবার ভারতেও শনাক্ত হলো ওমিক্রন

0

ভারতেও পৌঁছে গেলো করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। ভারতের কর্ণাটকে দুই ব্যক্তির দেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) দেশবাসীকে সতর্ক করে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে সিএনএন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রেও প্রথমবার করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটির শীর্ষ সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন কতটা দ্রুত ছড়ায় বা এটি প্রতিরোধে বিদ্যমান টিকাগুলো কতটা কার্যকর, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না কেউ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে করোনার পরীক্ষা ও টিকাদান কম হওয়ার বিষাক্ত মিশ্রণ ঘটেছে, যা নতুন ধরন সৃষ্টি ও নতুন ধরন বেড়ে যাওয়ার একটি ‘রেসিপি’।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, করোনার নতুন ধরন শনাক্তের আগে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নিয়েছিল ভারত। কিন্তু এখন সে পরিকল্পনা বাতিল করে পুনরায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে দেশটি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলোকে করোনা পরীক্ষা বৃদ্ধি করতে বলেছে। গত এপ্রিল ও মে মাসে দেশটিতে করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

করোনার সার্বক্ষণিক তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুসারে, এ পর্যন্ত ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৬ হাজারের বেশি। দেশটিতে মারা গেছেন ৪ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি রোগী। আর সুস্থ হয়েছেন ৩ কোটি ৪০ লাখের বেশি। দেশটিতে বৃহস্পতিবার ৯ হাজার ৭৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্তের দিক থেকে ভারতের ওপরে আছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে ফাউসি বলেছেন, ওমিক্রনে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি গত ২২ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। ২৯ নভেম্বর কোভিড পজিটিভ হন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। ওই ব্যক্তি এখন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের করোনার পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওই ব্যক্তি করোনার পূর্ণ ডোজ টিকা নিয়েছিলেন। তার শরীরে মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।

এদিন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ওমিক্রন শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফিনল্যান্ড। এর আগে বতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ইসরায়েল, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, নরওয়ে ও সৌদি আরবে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়।

ওমিক্রনের উপসর্গ মৃদু
ওমিক্রন সংক্রমণ নিয়ে গবেষণা করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা। দেশটির শীর্ষস্থানীয় একজন বিজ্ঞানী বলেছেন, যারা আগে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন বা টিকা নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ওমিক্রনের লক্ষণ খুব বেশি গুরুতর নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেসের বিজ্ঞানী অ্যানি ভন গটবার্গ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, পুনঃসংক্রমণ কম গুরুতর হবে। এটাই প্রমাণ করার চেষ্টার পাশাপাশি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার জনবহুল প্রদেশ গাউতেংয়ে ৮ নভেম্বর প্রথম ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ২৪ নভেম্বর দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে।

কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষার কঠোর নিয়ম আগামী সপ্তাহে কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের এক দিন আগে করোনার নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। টিকা দেওয়া থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ যে কোনো আন্তর্জাতিক পর্যটকের জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

দেশ বা অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করা অন্যায়
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, করোনাভাইরাস সত্যিই সীমান্তহীন। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন গুতেরেস। নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট দেশ ও অঞ্চলকে নিশানা করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির সমালোচনা করেন জাতিসংঘের মহাসচিব। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়কে অন্যায় ও অকার্যকর বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

নতুন ধরনটি ছড়ানো শুরুর পর থেকে আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে বিভিন্ন দেশ। কমপক্ষে ৭০টি দেশ ও অঞ্চল আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পদক্ষেপ জরুরি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, বিশ্বব্যাপী ছড়ানো করোনার ডেলটা ধরন ঠেকাতে বাধা দেওয়া হলে তা ওমিক্রন ঠেকাতেও কাজে আসবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের পদক্ষেপকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যদেশগুলো সম্ভাব্য পরবর্তী বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় নতুন করে আন্তর্জাতিক বিধিমালা তৈরিতে একমত হয়েছে। বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সদস্যদেশগুলোর এক বিশেষ বৈঠকে এ-সংক্রান্ত এক প্রস্তাব গৃহীত হয়। সে অনুযায়ী মহামারি নিয়ে প্রস্তুতি এবং এটি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কাজ করা হবে।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...