ফ্লাইওভারে ফাটল নেই, যান চলাচলে খুলে দেওয়া যাবে: বিশেষজ্ঞ দল

0

নগরের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের (বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার) আরাকান সড়কমুখী পাশাপাশি দুটি র্যাম্পের পিলারে ফাটল পায়নি বিশেষজ্ঞ দল। তবে অধিকতর নিশ্চিত হতে কারিগরি পরীক্ষা করবে দলটি। প্রয়োজনে ক্রেক হওয়া স্থানটি কেটে পিলারে ভেতরে কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা তাও দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার (২৭ অক্টোবার) সকালে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড কনসাইনমেন্টের (ডিপিএম) কর্মকর্তারা বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার পরিদর্শন করে এসব তথ্য জানান।

পরে বেলা ১টায় ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনালের কন্সট্রাকশন সাইটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড কনসাইনমেন্টের (ডিপিএম) ডিরেক্টর মো. শাহজাহান।

তিনি বলেন, বাইরের থেকে দেখতে ফ্লাইওভারের র্যাম্পের পিলারে ফাটলের মতো যেটি দেখা যাচ্ছে সেটি ফাটল নয়। এটি মূলত ‘আন ফিনিশিং জয়েন্ট। পিলার নির্মাণের সময় ধাপে ধাপে তৈরি করা হয়। একটি ধাপের কাজ শেষ করে অপর একটি ধাপের সংযোগ স্থলে কিছুটা কংক্রিট ও প্লাস্টার বের হয়ে আছে। যা দেখতে ফাটলের মতো দেখাচ্ছে।

ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনালের প্রজেক্ট ম্যানেজার মুনির হোসাইন বলেন, ফ্লাইওভারের এ অংশটি মূল নকশায় ছিল না। ফ্লাইওভার নির্মাণের চার বছর পর তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের অনুরোধে আমরা আরাকান সড়কমুখী এই র্যাম্পটি তৈরি করেছিলাম। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই র্যাম্পটি তৈরি করা হয়। হালকা যান চলাচলের জন্য র্যাম্পটি তৈরি করা হলেও ভারী যান চলাচলের কারণে এটি ঝুঁকিতে আছে

আমাদের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ফ্লাইওভারে কোনো ফাটল নেই। হালকা যান চলাচলের জন্য ফ্লাইওভার এখনই খুলে দেওয়া যেতে পারে। তবে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে কিছু কারিগরি পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে ক্রেক হওয়া স্থানটি কেটে পিলারে ভেতরে কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা তাও দেখা হবে বলে যোগ করেন মুনির হোসাইন।

এর আগে ২৫ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখে ফাটল মনে করে চান্দগাঁও থানা-পুলিশ আরাকান সড়কমুখী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে। পরদিন পরিদর্শনে গিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী নির্মাণ ত্রুটির কারণে এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের র্যাম্পের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

ওই দিন বিকেল পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমানও বলেন, ভারী যানবাহন চলা অথবা নির্মাণকাজে ভুল থাকার কারণে পিলারে ফাটল হতে পারে। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি আবার দাবি করেন, যেটিকে ফাটল বলে আলোচনা করা হচ্ছে বাস্তবে সেটা ফাটল নয়, এটি ফলস কাস্টিং।

চান্দগাঁও থানার ওসি মইনুর রহমান আজ বুধবার বিকেলে বলেন, এখনো পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের জন্য কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে খুলে দেওয়া হবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, যাতে ভারী যানবাহন চলাচল না করে সে জন্য ব্যারিয়ার তৈরি করে দিচ্ছি। হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য আজকে কালকের মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আসলে বিশেষজ্ঞ দলের মতামতের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। যখন ফাটল বলা হচ্ছে, তখন বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন না করায় আমরাও মনে করেছিলাম ফাটল। এখন বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করেছে, তাঁরা ফাটলের কোনো কিছু পায়নি। এটি ছিল পুরোটা গুজব।

সিডিএ সূত্র জানায়, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১১ সালের মার্চে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে নির্মাণের কার্যাদেশ পায় মীর আক্তার-পারিশা (জেভি) কনস্ট্রাকশন। মীর আকতার প্রধান অংশীদার হলেও মূল কাজ করে পারিশা।

এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করার সময় ২০১২ সালের ২৯ জুন একটি গার্ডার হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে একজন রিকশাচালক সামান্য আহত হন। এরপর একই বছরের ২৪ নভেম্বর ফ্লাইওভারের তিনটি গার্ডার ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন নিহত হন।
এ ঘটনার পর সিডিএর প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী এ এম হাবিবুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়। পরে তাঁকে মামলার আসামি করা হয়।

প্রথমে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৯১ কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে ১০৬ কোটি টাকা করা হয়। ফের সংশোধন করে প্রকল্প ব্যয় ১২০ কোটি টাকা করা হয়। ১ হাজার ৩৩২ মিটার দৈর্ঘ্যের ফ্লাইওভারটির প্রস্থ ১৪ মিটার। চার লেনের বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের দুই পিলারের দূরত্ব ১৩০ ফুট।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...