যেভাবে গ্রেপ্তার করা হলো ইকবালকে

0

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আলোচিত এই ইকবালকে ধরার অভিযানে পুলিশকে সহযোগিতা করছেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজ ছাত্রলীগের নেতা মেহেদী হাসান মিশু, তার বন্ধু সাজ্জাদুর রহমান অনিক ও সাইফুল ইসলাম সাইফ। মূলত এই তিন বন্ধুর সহযোগিতায় ইকবালকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

মেহেদী হাসান মিশু জানান, তারা তিন বন্ধু মঙ্গলবার কক্সবাজারে বেড়াতে যান। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে হাঁটতে গিয়ে পরিচয় হয় ইকবাল নামে ছেলেটির সঙ্গে। কিছুক্ষণ কথা বলতে গিয়ে তাদের সন্দেহ হয় এই সেই ইকবাল কুমিল্লার ঘটনায় যার ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

মিশু বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা তার সঙ্গে সময় ব্যয় করি। গল্প করে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করি। তার কথায় সন্দেহ হলে মূল ঘটনা জিজ্ঞেস করি। এই সময়ে তার সঙ্গে আরু ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করি।

একপর্যায়ে সে পূজামণ্ডপের পুরো ঘটনা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিশ্চিত হই, এই সেই ইকবাল যাকে পুলিশ খুঁজছে। কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ে অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন।’

মেহেদী হাসান মিশু আরও বলেন, ‘ইকবালের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা ভাবতে থাকি তাকে কিভাবে পুলিশে দেওয়া যায়। রাত ৯ টার দিকে আমরা গোপনে পুলিশকে বিষয়টি জানাই। পুলিশ এসে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ইকবালকে গ্রেপ্তার করে। এই সময়ে তার পরনে ছিল লাল শার্ট, গলায় একটি মালা।’

এদিকে সাজ্জাদুর রহমান অনিক বলেন, ‘ইকবালকে দেখে তার সাথে কথা বলে আমাদের সন্দেহ হয়। তারপর আমরা তার সাথে সখ্যতা তৈরি করি। সে আমাদের জানায় এক সপ্তাহ আগে সে কক্সবাজার এসেছে। দীর্ঘ আড্ডায় এক সময় ইকবাল গান শোনাতে অনুরোধ করলে আমরা তাও করি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় কাটিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত হই। তারপর কক্সবাজারের পুলিশকে বিষয়টি জানাই। পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। প্রাথমিক তথ্যে আমরা নিশ্চিত হয়েছি এই ব্যক্তি কুমিল্লার ঘটনায় জড়িত। তারপর আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার ইকবালকে শুক্রবার সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সকাল ৬ টা ২০ মিনিটের সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে ইকবালকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওয়ানা দেয় পুলিশ।’

কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান সরকার বলেন, ‘আমরা যে ইকবালকে খুঁজছিলাম সে এই ইকবালই। গ্রেপ্তার এড়াতে সে কক্সবাজার এসেছিল।’ এই পুলিশ কর্মকর্তাই ইকবালকে নেওয়ার জন্য কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার এসেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পাড় এলাকার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা হয়। এই ঘটনায় কুমিল্লা নগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ইকবালকে শনাক্ত করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, ইকবাল পাশের দারোগা বাড়ি মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে গভীর রাতে মণ্ডপে রাখেন।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...