দলের ভেতর থেকে দল ভাঙার ষড়যন্ত্র দেখেছি

0

পঁচাত্তর পরবর্তী দলের কঠিন দুঃসময়ের কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। দলের ভেতর থেকে দল ভাঙার ষড়যন্ত্র আমরা সেদিন দেখেছি।

রোববার (৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এন জি মাহমুদ কামালের মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আ জ ম নাছির বলেন, ‘এন জি মাহমুদ কামাল আমাদের প্রতিবেশি ছিলেন। ছাত্রজীবনে তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি দুঃসময়ে আমাদের সাহস না হারানোর মন্ত্রণা দিয়েছিলেন। তার ঘরের বারান্দা ছিল আমাদের আশ্রয়স্থল। সেখানে বসিয়ে তিনি আমাদের পরম মমতায় সামনের দিকে পথ চলার নির্দেশনা দিতেন। প্রয়াত নেতারা আমাদের আদর্শের পূর্বসূরী। তাদের পথ ধরেই আমাদের কঠিনকে আলিঙ্গন করে প্রকৃত বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।’

আমিত্ব পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পঁচাত্তর পরবর্তী আওয়ামী লীগের দুঃসময় দেখেছি। সেদিন দল ভাঙার চেষ্টা করেছিল বিশেষ মহল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে দেশের প্রত্যাবর্তন করতে না পারে, সেজন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র হয়েছে। এমনিক দলের কেন্দ্রীয় অফিসও দখল করে রাখা হয়েছিল। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও এন জি মাহমুদ কামালের পরামর্শে চট্টগ্রাম থেকে বাসযোগে নেতাকর্মীরা গিয়ে সেই অফিস দখলমুক্ত করেছিল। আমরা সেদিন ষড়যন্ত্রকারীদের বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেদিনের সেই তেজোদ্দীপ্ত ভূমিকার কারণে শেখ হাসিনার দলের সভাপতি হওয়ার পথ সুগম হয়েছিল।’

একই সভায় নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি তারা এখন নানাভাবে বিভিন্ন কারণে বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছি এবং নিজেরাই আত্মঘাতী কাজে শামিল হচ্ছি। আমাদের কাজে দল ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না ভেবে দেখা দরকার। দলকে পরিশুদ্ধ করা দরকার। আওয়ামী লীগ যারা করেন, তারা সাধারণ ঘরের সন্তান। ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে যারা আওয়ামী লীগ করতে চায়, তাদের জন্য আওয়ামী লীগের দুয়ার চিরদিনের জন্য বন্ধ করতে হবে।’

নগর কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় সভায় এতে বক্তব্য দেন সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, চিকিৎসক ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, আইন সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার ও হাজী বেলাল আহমেদ প্রমুখ।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...