চট্টগ্রামে কমে আসবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট

0

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়নে পিডিবির নেওয়া প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ‘চট্টগ্রাম জোনের বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের কাজ আগামী আগস্টের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

এই প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এখন যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে- তা কমে আসবে।

পিডিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে ২০১৪ সালে ‘চট্টগ্রাম জোনের বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটি একনেকের সভায় পাস হয়। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে এখন চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ও পিডিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দুলাল হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে এখন কোনো লোডশেডিং নেই। এখন যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে তার মূল কারণ- রুটিন শাট ডাউন এবং কারিগরি ত্রুটি। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রুটিন শাট ডাউনের প্রয়োজন হবে না। কারিগরি ত্রুটি অনেকাংশে কমে আসবে। ফলে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিভ্রাট সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

প্রায় ১ হাজার ৪২১ কোটি টাকার মেগা এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১২টি ৩৩/১১ কেভির জিআইএস উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। মাদামবিবির হাট, দক্ষিণ কাট্টলী, আনন্দবাজার, মনসুরাবাদ, বাংলাবাজার, এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটি, অক্সিজেন, অনন্যা আবাসিক, এফআইডিসি রোড, কল্পলোক আবাসিক, মইজ্জারটেক এবং রহমতগঞ্জে নির্মাণাধীন এসব উপকেন্দ্রের মধ্যে ৪টি চালু হয়েছে। ৪টির কাজ শেষ। বাকি ৪টির কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

প্রকল্পের অধীনে বান্দরবান এবং রামুতে ২টি ৩৩/১১ কেভির এআইএস উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব উপকেন্দ্রের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাড়বকু-, বার আউলিয়া, ফৌজদারহাট এবং হাটহাজারীর ৪টি উপকেন্দ্র নবায়ন করা হচ্ছে। এরমধ্যে ২টির কাজ পুরোপুরি শেষ এবং ২টির কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এছাড়া খুলশী, হাটহাজারী, চকরিয়া এবং বাকলিয়ার ৪টি উপকেন্দ্র আপগ্রেড করা হচ্ছে। এসব উপকেন্দ্র আপগ্রেডের কাজ শেষ হয়েছে।

সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৬৩ কিলোমিটার ৩৩ কেভির, ৩০০ কিলোমিটার ১১ কেভির, ৩০০ কিলোমিটার ১১/০.৪ কেভির এবং ৩০০ কিলোমিটার ০.৪ কেভির নতুন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ২৬৭ কিলোমিটার ৩৩ কেভির, ৩০০ কিলোমিটার ১১ কেভির, ৩০০ কিলোমিটার ১১/০.৪ কেভির এবং ৩০০ কিলোমিটার ০.৪ কেভির লাইন নবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ট্রান্সফরমার লাগানোর কাজ শেষ পর্যায়ে।

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকৌশলী দুলাল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯২ শতাংশ। আর আর্থিক অগ্রগতি ৮৯ শতাংশ। আশা করি- আগস্টের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে নতুন নির্মাণ করা উপকেন্দ্রে ৭৩০ মেগা ভোল্ট এম্পেয়ার (এমভিএ) সক্ষমতা যুক্ত হবে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে বিদ্যুতের যে চাহিদা তৈরি হবে- তা পূরণ করা সম্ভব হবে। শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক এবং আবাসিকসহ অন্তত ৫ লাখ গ্রাহককে নতুন সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

কয়েক দফা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, করোনার কারণে প্রকল্প কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া অনেক এলাকায় রুটিন শাট ডাউনের কাজে বাধা দেওয়া হয়। উপকেন্দ্র নির্মাণের জমি অধিগ্রহণেও জটিলতা তৈরি হয়। এসব কারণেই প্রকল্পের মেয়াদ আবার ৬ মাস বাড়াতে হয়েছে। না হয় চলতি জুনেই আমরা কাজ শেষ করতে পারতাম। ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না। এখন আগস্টের মধ্যেই কাজ শেষ করতে চাই আমরা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান সামিনা বানু বলেন, চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে ‘চট্টগ্রাম জোনের বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করি খুব দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের সুফল চট্টগ্রামের মানুষ পাবেন।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...