গৃহকর্মীকে মৃত ভেবে জঙ্গলে ফেলে দেন গৃহকর্তা

0

নগরের পাঁচলাইশে নিলুফার (১৫) নামের এক কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দম্পতিসহ বাড়ির দারোয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— জেসমিন আকতার সুমি ও তার স্বামী মো. সেলিম এবং দারোয়ান মো. আলী আকবার।

রোববার (৩০ মে) হামজারবাগের মোমিনবাগ আবাসিক এলাকার বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানান পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির।

তিনি বলেন, ৩ মাস ধরে মো. সেলিমের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন নিলুফার। পান থেকে চুন খসলেই এই কিশোরীর ওপর নেমে আসত নির্মম নির্যাতন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৭ মে) অতিরিক্ত মারধরের পর অজ্ঞান হয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়ায় দুর্গম জঙ্গলে ফেলে আসেন বাড়ির মালিক। পরে রাঙ্গুনিয়া থানার সহায়তায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

একটু সুস্থ হয়ে উঠলে পুলিশের কাছে তুলে ধরে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্মম নির্যাতনের চিত্র। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় বাড়ির মালিক, দম্পতি ও দারোয়ানকে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নিলুফার মা কহিনূর আকতার বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা নিলুফার পুলিশকে জানান, কাজ শুরুর পরদিন থেকে আমাকে নির্যাতন শুরু করে তারা । খাবার খেতে দিত না। কিছু হলেই চামচ গরম করে গায়ে ছ্যাঁকা দিত। কথায় কথায় গায়ে ঢেলে দিত গরম পানি। তারা খাওয়া দাওয়া করার সময় আমাকে টয়লেটে বন্দি করে রাখত। এই তিন মাসে আমাকে এক টাকাও বেতন দেননি। কয়েকদিন আগে আমাকে বেশি মারধর করে। আমি অজ্ঞান হয়ে গেলে মরে গেছি ভেবে জঙ্গলে ফেলে দেয়। সেখান থেকে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...