কার্যালয় নেই, কর্মসূচিও, তবুও ভাউচার করেছে সাকো!

0

কক্সবাজারের পেকুয়ার সাত ইউনিয়নে ভিজিডি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করে এনজিও সংস্থা সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি- সাকো। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সংস্থাটির মাঠ পর্যায়ে কোনো কার্যালয় নেই, নেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা! এ অবস্থায় ভুয়া ভাউচার তৈরি করেছে সাকো!

’খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ ও ২০২০ সালে পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের জন্য ১ হাজার ৩৯৬ জন দুস্থ ও অসহায় নারীর উন্নয়নে সাকোর সঙ্গে চুক্তি করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। মূলত ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় থাকা দুস্থ ও অসহায় নারীর বিভিন্ন জীবন দক্ষতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ভিজিডির উপকার ভোগীদের কাছ থেকে মাসিক কিস্তি উত্তোলনের জন্যই এই চুক্তি।

অভিযোগ উঠেছে, অধিদপ্তর নির্দেশিত ম্যানুয়েল অনুসারে পেকুয়া উপজেলায় ভিজিডির কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেনি সাকো। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ে পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের ভিজিডি উপকারভোগীদের কাছ থেকে কিস্তিও উত্তোলন করেনি। এ ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে গ্র্রাম পুলিশ ও সচিবরা ভিজিডির উপকারভোগীদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকে জমা রেখেছেন।

এদিকে জীবন দক্ষতার কোনো প্রশিক্ষণ পাননি উপজেলার সাত ইউনিয়নের ভিজিডির উপকারভোগীরা। অথচ চলতি মাসেই (ডিসেম্বর) শেষ হচ্ছে ভিজিডি কর্মসূচি।

নিয়ম অনুযায়ী, ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় থাকা উপকারভোগীদের মাসে অন্তত ৪টি জীবন দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করতে হবে। এসব কর্মশালার জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে অর্থ বরাদ্দও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাত উনিয়নের ভিজিডির উপকারভোগীদের কাছ থেকে সাদা কাগজে একাধিক স্বাক্ষর নিয়ে কর্মসূচি আয়োজন করেছে মর্মে ভুয়া ভাউচার তৈরি করেছে সাকো।

উপজেলার সাত ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন ইউপি সচিব জয়নিউজের কাছে অভিযোগ করেছেন, পেকুয়া উপজেলায় ভিজিডি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে দায়িত্ব নিলেও কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি সাকো। সাত ইউনিয়নের সাতজন মাঠকর্মী নিয়োগ করে কাজ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তারা সেটিও করেনি।

অপরদিকে ভিজিডির উপকারভোগী কয়েকজন নারী জানান, তাদের কাছ থেকে যথাসময়ে কিস্তি উত্তোলন করেনি সাকোর মাঠকর্মীরা। জীবন দক্ষতার উপর কোনো প্রশিক্ষণও দেননি।

পেকুয়া উপজেলায় সাকোর কার্যালয় কিংবা কর্মকর্তা না থাকায় অভিযোগের ব্যাপারে তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পেকুয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. শওকত হোসেন জয়নিউজকে বলেন, এনজিও সাকো পেকুয়ায় কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেনি। তাই জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাকোর কার্যক্রম সন্তোষজনক নয় মর্মে অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। যাতে তারা কোনো বিল না পান।

জয়নিউজ/গিয়াস/পিডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...