আসল আসামি বাইরে আর কারাগারে ভিন্ন মানুষ

0

কক্সবাজারের রামু থানায় দায়ের করা এক মাদক মামলায় ৫ মাস ধরে জেল খাটছেন নুরুল আমিন নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পর জানা গেল ভিন্ন গল্প। তদন্তে বেরিয়ে আসে ওই মামলায় যে নুরুল আমিন জেলে আছেন তিনি আসলে নিরপরাধ। প্রকৃত আসামি ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রকাশ্য দিবালোকে। নাম ও ঠিকানা হুবহু মিল থাকায় এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি মাদক কারবারি নুরুল আমিনের। অবশেষে ঠিকই ধরা পড়লেন পুলিশের জালে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি জারুলিয়াছড়ি এলাকায় অভিযানে ইয়াবা কারবারি নুরুল আমিন ধরা পড়ে বলে জানান কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী।

গ্রেফতার নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেন (২৪) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জারুলিয়াছড়ি এলাকার মৃত আশরু মিয়ার ছেলে।

সে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক হলেও শ্বশুর মো. মনিরুজ্জামানকে পিতা সাজিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে।

অন্যদিকে নিরাপরাধ হওয়ার পরও মামলায় মিথ্যা আসামি হয়ে কারান্তরীণ থাকা নুরুল আমিন ওরফে নুরু (২৬) একই এলাকার নুরু সালামের ছেলে।

এজাহারের বরাতে ডিবি সূত্র জানায়, চলতি বছরের গত ২৮ এপ্রিল রাতে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের চা-বাগান এলাকায় ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি মোটরসাইকেলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৩০ হাজার ইয়াবাসহ রশিদ ওরফে খোরশেদ (৩০) নামে এক যুবককে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মাদক সিন্ডিকেটের সহযোগীদের নাম সে পুলিশকে জানায়।

সে জানায়, ইয়াবার চালান লেনদেনে তার সঙ্গে নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেন, মো. বেলাল হোসেন, বশির আহমেদ ও মাহমুদুর রহমান জড়িত।

পরে আটক মোহাম্মদ রশিদকে নিয়ে মজুদ করা আরো ইয়াবার চালান উদ্ধারে চা-বাগানের ভেতরে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল। এতে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশকে লক্ষ্য করে তার সহযোগী ইয়াবা কারবারিরা গুলি ছুড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে মোহাম্মদ রশিদ ও পুলিশের ৩ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে (মোহাম্মদ রশিদ ) উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছিল। এসময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছিল দেশীয় ১টি বন্দুক ও ৩টি গুলি।

এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেছিল।

এ মামলায় নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেন, মো. বেলাল হোসেন, বশির আহমেদ ও মাহমুদুর রহমানকে পলাতক দেখিয়ে আসামি করা হয়।

এদিকে গত ২১ জুলাই নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ মামলার পলাতক আসামি নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেনকে গ্রেফতারে অভিযান চালায়। এতে নাম-ঠিকানা মিল থাকায় প্রকৃত আসামি মনে করে নুরু ছালামের ছেলে নুরুল আমিন ওরফে নুরুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কিন্তু মামলাটির প্রথম তদন্তকারি কর্মকর্তা পরিদর্শক রুপল চন্দ্র দাশ অন্যত্র বদলি হলে তদন্তভার দেওয়া হয় ডিবির পুলিশের পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আলীকে। তিনিই আবিষ্কার করেন প্রকৃত আসামিকে।

এ ব্যাপারে পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, গোপন সংবাদে জানতে পারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারান্তরীণ থাকা ব্যক্তি প্রকৃত আসামি নয় এবং সে নিরাপরাধ। প্রকৃত আসামি এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে তথ্য সংগ্রহ করি। পরে অভিযান চালিয়ে প্রকৃত আসামি নুরুল আমিন ওরফে ইমাম হোসেনকে গ্রেফতার করি।

এ ঘটনায় গ্রেফতার প্রকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

জয়নিউজ/শামীম/পিডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...