পরিকল্পনাকারীরাই চিনিয়ে দেয় ভাড়াটে খুনিদের

হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা হয় আলমগীরের উপর

0

আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য আলমগীর চৌধুরীকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়েছিল। আনোয়ারা-বাঁশখালীর তৈলার দ্বীপ সেতুর টোল আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আজিজ মেম্বার ও জসিম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ ঘটনায় অংশ নেয় সাত থেকে আটজন ভাড়াটে ‘খুনি’। আজিজ মেম্বার ও জসিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আলমগীরকে চিনিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় জড়িত দুই খুনিকে গ্রেফতার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। নেজাম উদ্দিন নাজু ও নুর উদ্দিন খান মুরাদ নামে এ দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দি ও পুলিশের তদন্তে উঠে আসে আলমগীর চৌধুরীকে হত্যার পরিকল্পনার তথ্য।

নগরের মুরাদপুর এন. মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য আলমগীর চৌধুরীর উপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তার পিঠে ও হাতে ছুরিকাঘাত করে তারা। এ ঘটনায় আলমগীর চৌধুরীর স্ত্রী নাদিরা বেগম পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার সাতদিনের মাথায় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ নেজাম উদ্দিন নজু ও নুর উদ্দিন খান মুরাদ নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে। ২৪ সেপ্টেম্বর নেজাম উদ্দিন নজু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে নজু জানায়, মুরাদ খান ও আলমগীর ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নজুকে রিয়াজউদ্দিন বাজার যেতে বলে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে রিয়াজউদ্দিন বাজার পৌঁছে নজু। সেখান থেকে মুরাদ, মো. আলমগীর, আজিজ মেম্বার ও জসিম মিলে মুরাদপুরের এলুমিনিয়াম গলিতে আসে। রাত সোয়া ১০টার দিকে পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় আলমগীর চৌধুরী এন. মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারের সামনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় আলমগীর চৌধুরীকে আজিজ মেম্বার ও জসিম চিনিয়ে দেয়। এরপর ভাড়াটে খুনি নুর উদ্দিন খান মুরাদ, মো. আলমগীর ও কামাল তাকে পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করে।

তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, আনোয়ারা-বাঁশখালীর তৈলার দ্বীপ সেতুর টোল আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আজিজ মেম্বার ও জসিমসহ কয়েকজন আলমগীরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এর সাথে আনোয়ারার আরো কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। এ হত্যার পরিকল্পনাকারী আজিজ মেম্বার আনোয়ারা শ্রমিক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বারখাইন ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। জসিম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আলমগীর চৌধুরীকে ছুরিকাঘাতকারী মো. আলমগীর ও নুর উদ্দিন খান মুরাদ সদরঘাট এলাকার পরিবহন ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ চৌধুরী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। মোগলটুলি এলাকায় আলমগীর ও মুরাদের ভাড়াটে গ্রুপ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা আলমগীর চৌধুরীর উপর হামলাকারীদের সনাক্ত করি। প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা নিশ্চিত হই কারা ঘটনাস্থলে ছিল। এরপর নেজাম উদ্দিন নজুকে গ্রেফতার করি। তারা ভাড়ায় আলমগীরকে হত্যার জন্য চুক্তি করে।

তিনি আরো বলেন, তাদের সাথে এ ঘটনায় আরো সাত-আটজন ছিল। হামলাকারীরা আলমগীর চৌধুরীকে চিনত না। তাদের ঘটনাস্থলে এনে খুনের পরিকল্পনাকারীরা আলমগীর চৌধুরীকে চিনিয়ে দেয়।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...