চোর সাজিয়ে কৃষককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, চক্রান্ত চেয়ারম্যানের

0

লক্ষ্মীপুরে চুরির অপবাদে এক কৃষককে গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর মামলা না করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে পুরো পরিবারের কাছ থেকে জোর করে কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এমনই অভিযোগ করেছেন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কৃষক আমির হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল দীর্ঘদিন ধরে তার কাছ থেকে কিছু জমি বাগিয়ে নিতে চাইছিলেন। কিন্তু জমি দিতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম মারধর করা হয়। এ নিয়ে যাতে কোনো মামলা করতে না পারেন সেজন্য প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন চেয়ারম্যান।

স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী জানান, সদর উপজেলার চররমনী ইউনিয়নের চরআলী হাসান এলাকার হতদরিদ্র তিন সন্তানের জনক কৃষক আমির হোসেন। ২৩ আগস্ট সোমবার রাতে ঘরে ফেরার পথে তাঁকে চুরির অপবাদ দিয়ে প্রতিবেশী সোহাগ, জুলহাস, আরিফ ও দেলু নামে কয়েকজন ব্যক্তি আটক করে। এরপর গাছের সঙ্গে বেঁধে বর্বর নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল ও ইউপি সদস্য স্বপনকে খবর দেয় তারা। পরে তাদের উপস্থিতিতেও বেদম মারধর করা হলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ওই কৃষক। পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে আমির হোসেনকে ইউপি সদস্য স্বপনের বাড়িতে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন চেয়ারম্যান।

অপর কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কৃষক আমির হোসেন এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবেই পরিচিত। চুরি করার প্রশ্নই উঠে না। এরপরও যদি চুরি করে তাহলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। কিন্তু চুরির অভিযোগ এনে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

যোগাযোগ করা হলে সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আরমানুর রহমান অপু জয়নিউজকে বলেন, কৃষক আমির হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখনো তাকে আশঙ্ক মুক্ত বলা যাবে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তা বলা যাবে।

এদিকে সদর চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি জয়নিউজকে বলেন, কৃষক আমির হোসেনকে চুরি করার অপরাধে স্থানীয়রা মারধর করেছে। এ ঘটনা ও জমির বিষয়ের সঙ্গে আমি জড়িত নয়।

সদর থানার ওসি এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যান থেকে বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়নিউজ/মনির

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...