‘এক কথায় ভালো একজন বস ছিলেন আ জ ম নাছির স্যার’

0

রাজনীতিদিবদের সঙ্গে চাকরি করলে কিছুটা চাপ সহ্য করতে হয়। স্বাধীনভাবে কাজ করা যায় না। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে এসে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কাজ করার সেই ধারণা আমার পাল্টে গিয়েছে। কারণ সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি স্বাধীনভাবে।
কথাগুলো বলছিলেন, চট্টগ্রামি সিটি করপোরেশনের ( চসিক) সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়োজিত প্রীতি সম্মিলনে মেয়র নাছির সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

আবু শাহেদ চৌধুরী বলেন, রাজনীতিবিদের শক্তি মানুষকে ভালোবাসা। মেয়র নাছির মানুষকে ভালোবাসেন। মানুষের প্রতি তাঁর বুকভরা ভালোবাসা। শত্রুকেও আপন করে নেওয়া যায় ভালোবাসায় তা শিখেছি মেয়র স্যারের কাছ থেকে। চসিকের প্রতিটি কর্মকর্তা স্বাধীনভাবে কাজ করেছেন। চসিককে গতিশীল রেখে যাচ্ছেন মেয়র। আপনি আমাদের অভিভাবক ছিলেন, আছেন, সারাজীবন থাকবেন। আমরা মনে করি আপনি ছায়া হিসেবে আমাদেরকে ভালোবেসে যাবেন। আপনার মতো বস পাওয়া খুবই ভাগ্যের বিষয়।

একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে চসিক সচিব বলেন, গতবছর চট্টগ্রামে একটি ঘূর্ণিঝড় হানা দিয়েছে। মেয়র মহোদয় চীন থেকে দেশে ফিরলেন। খুব খারাপ অবস্থা আবহাওয়ার। সড়কপথে চট্টগ্রাম পৌঁছে আসলেন কন্ট্রোল রুমে। কিন্তু আমি মনে করেছিলাম তিনি (মেয়র) কন্ট্রোল রুম দেখে বাসায় চলে যাবেন, যেহেতু অনেকপথ জার্নি করে এসেছেন। কিন্তু আমাকে অবাক করে তিনি উত্তর দিলেন না। বাসায় না গিয়ে চলে গেলেন পতেঙ্গাসহ উপকূলীয় এলাকা পরিদর্শন করতে। এমন জনপ্রতিনিধি আর পাওয়া যাবে না।

প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ বলেন, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগরবাসীর সেবক। জনগণের করের টাকায় আমরা বেতন পাচ্ছি। চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কাজ দৃশ্যমান। আমরা মেয়রের গাইডলাইন অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। আমাদের বিভাগের কাজের ব্যর্থতার জন্য মেয়রকে নগরবাসী, মিডিয়ার কাছে জবাবদিহি করতে হয়েছে। আমরা দুঃখিত। কিন্তু মেয়র স্যার সব সময় নগরবাসীর কথা চিন্তা করতেন। হয়ত গাফিলতি আমাদের, কিন্তু কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে।

প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল ইসলাম বলেন, যখন মন্ত্রণালয় থেকে পোস্টিং দিচ্ছিল তখন চিন্তা করছিলাম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবো তো। চসিকে মেয়র স্যারের একান্ত সহকারী হিসেবে যোগদান করে সেই ধারণা পাল্টে গেল। একজন রাজনীতিবিদের সাথে স্বাধীনভাবে কাজ করা যায় তা এখানে পেয়েছি। যখন পদোন্নতি হলো মেয়র স্যার আমাকে চসিকে রেখে দিলেন। যোগ দিতে বললেন রাজস্ব বিভাগে।

তিনি বলেন, চসিকের রাজস্ব বিভাগ নিয়ে আতঙ্কে ছিলাম। সিআরও পদকে মনে করা হয় চোরদের সম্রাট। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২২০ জনকে একযোগে বদলি করেছি। কারও চেহারাও দেখিনি। রাজস্বের পরিমাণ খুব বেশি বাড়াতে পারিনি। নিজেরা নিজেরা মামলা করায় এ বিভাগে কাউকে পদোন্নতি দেওয়া যায়নি। হাসিমুখে ‘না’ বলাটা মেয়রের কাছ থেকে শিখেছি।

শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতিতে মেয়র কোনো সময় তদবির করেননি উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বলেন, মেয়র মহোদয় ভালো মানুষ, সুন্দর মনের মানুষ। তাঁর মতো প্রতিষ্ঠানপ্রধান পাওয়া ভাগ্যের। আমি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছি। আমরা এককভাবে অমর একুশে বইমেলা করতে সক্ষম হয়েছি। ১৩ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু কখনো বলেননি- উনি আমার আত্মীয়, উনি আমার পরিচিত বা রাজনৈতিক কেউ। সবসময় বলেছেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দিতে।

জয়নিউজ/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...