দ্রুত এগোচ্ছে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ

0

চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতির কারণে সড়ক উন্নয়ন কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও বর্ষায় আগেই একটি বাদে ৩৭টি কালভার্টেরই কাজ শেষ হয়েছে। যার কারণে গাড়ি চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

জানা যায়, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ৩৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। এর অধীনে হাটহাজারী থেকে খাগড়াছড়ির, মানিকছড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ করা হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ জানান, দুই বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় এই কাজ সম্পন্ন করা হবে। ৩২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সরু সড়কটি প্রশস্তকরণ করা হবে। বর্তমান সড়কের দ্বিগুণ আয়তন হবে নতুন সড়কটি। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির প্রস্থ রয়েছে ১৮ ফুট। সড়কটিকে ৩৪ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে।
‘সড়কের পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে ৩০৮ মিটারের ৩৮টি আরসিসি কালভার্ট। ইতোমধ্যে ৩৭টি কালভার্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৩২.৫ কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে ২২.৫ কিলোমিটার সড়কের সাব-বেইজ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সড়কের পাশে বিভিন্ন বাজার অংশে ৮ হাজার ৫০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। রোড সাইন-সিগন্যাল, গাইড পোস্ট, রোড মার্কিংসহ নেওয়া হবে সড়ক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। সড়কের দু’পাশে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা থাকায় সড়ক সম্প্রসারণ কাজ কিছু ব্যাহত হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কটি এই অঞ্চলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়কে প্রায় সময় যানজট লেগেই থাকতো, সড়ক প্রশস্তকরণের ফলে এই সড়কে যাতায়াতকারী সবাই সুবিধা ভোগ করবে, সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ হবে।

সড়কে বেশ কয়েকটি স্কুল, কলেজ, গুরুত্বপুর্ণ হাটবাজার, হাটহাজারী মাদরাসা এবং মাইজভান্ডার দরবার শরীফকে সড়কটি অতিক্রম করেছে। এই সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী এবং খাগড়াছড়ি অঞ্চলের জনগণের যাতায়াতের এবং পণ্য সামগ্রী দ্রুত পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই সড়ক ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে প্রশস্তকরণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্হা উন্নত হবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (বারৈয়রহাট) হতে হাটহাজারী উপজেলার সঙ্গে উন্নত সংযোগ স্থাপিত হবে।

এই সড়কের পাশে অবস্থিত চা বাগান, রাবার বাগানের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী এবং খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী চট্টগ্রামসহ সারাদেশে এই সড়কের মাধ্যমে পরিবহন সুবিধা পাওয়া যাবে। ‍মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে সড়কটি বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা জানান।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান র‌্যাব আরসির প্রজেক্ট ম্যানেজার নুরুজ্জামান বলেন, সড়ক সম্প্রসারনের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, বর্ষার কারণে কাজে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তবুও নির্ধারিত সময়ে আগেই কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাস্তার কাজে বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে সওজ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ বলেন, প্রশস্তকরণ সড়কে ৪টি বাস বে নির্মিত হচ্ছে, ৪টি লোকেশনে যাতে যাত্রীরা নিরাপদে বাসে উঠা-নামা করতে পারেন। প্রকল্প কাজের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য সাবক্ষণিকভাবে দুটি ল্যাবরেটরি নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

ফটিকছড়ি সদরে একটি দ্বিতল মনোরম পরিদর্শন বাংলো নির্মাণ করা হচ্ছে এই প্রকল্পের আওতায়। সড়কে মসজিদ, বাজার অবৈধ স্থাপনা থাকায় মাঝে মাঝে কিছুটা বিভিন্ন মহল থাকে বাধা আসে, যার কারণে সড়ক সম্প্রসারণের কাজে কিছুটা ধীর গতি হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা হবে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৩৯৯ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় সরকার। এতে ৪টি প্যাকেজে ভাগ করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রথম প্যাকেজে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ২, ৩, ৪র্থ প্যাকেজে র‌্যাব আরসি নামক প্রতিষ্ঠান কাজ পায়।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...