লকডাউনে স্বেচ্ছাসেবকরা যুদ্ধের ময়দানের পদাতিক যোদ্ধা: মেয়র নাছির

0

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে রেড জোন চিহ্নিত এলাকায় লকডাউন কার্যকরকরণে সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবকদের যুদ্ধের ময়দানের পদাতিক যোদ্ধা হিসেবে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

চসিকের উদ্যোগে আইইডিসিআর ও সিভিল সার্জন চট্টগ্রামের সহযোগিতায় রেডজোন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের কোভিড-১৯ কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং সংক্রান্ত ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রোববার (২১ জুন) সকালে থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় তিনি বলেন, অদৃশ্য শত্রু ও মরণঘাতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুজীব করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হতে মানুষকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল স্বেচ্ছাসেবকরাই সহায়ক শক্তি।

তিনি চলমান ক্রমাবনতিশীল করোনার সামাজিক সংক্রমণ পরিস্থিতির মারাত্মক প্রভাব ও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা জানি। এ পরিস্থিতি প্রত্যেকের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিজের সুরক্ষা নিজেরই হাতে। এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাকে অনেকেই আমলে আনছেন না। এই উদাসিনতাও একটি মারাত্মক ব্যাধি।

চসিক মেয়র বলেন, যারা জেগে ঘুমায় তাদের জাগানো যায় না। এ আত্মঘাতি ঘুমের ভান স্বেচ্ছাসেবকরাই ভাঙাতে পারেন। তিনি এ কাজটি করতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্যরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাদেরকে সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারের কাছে শারীরিকভাবে সরাসরি যেতে হবে না। এক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে। রোগী যেখানেই থাকুক দূর থেকে মোবাইল বা ভিডিও কলে রোগীর অবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধপত্র ও চাহিদা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া যাবে। সুতরাং স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার ঝুঁকির বিন্দুমাত্র আশঙ্কার অবকাশ নেই।

মেয়র নাছির গণমাধ্যম কর্মীদের চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলাই পজেটিভ ক্যাম্পেইন পাওয়ার হিসেবে অভিহিত করে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সারাবিশ্বের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। আমদেরও ছিল না। তাই পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে সে সম্পর্কে ধারণাও ছিল না। শুরুতেই কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়হীনতা ছিল। এসব নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে, তবে পরামর্শও থাকতে হবে। তাই কখন-কোথায়-কী ভুল হয়েছে, কেন হয়েছে সে কথা বার বার না লিখে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, কী করা যায় সেই পরামর্শ ও পথ বাতলে দিলে আমরা অবশ্যই গ্রহণ করবো।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, রেডজোন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের কোভিড-১৯ কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং সংক্রান্ত ওরিয়েন্টেশন কর্মশালার এ কাজটি করার দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তবুও নাগরিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই চসিকের আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মশালাটি হচ্ছে বিধায় এর একটি ইতিবাচক প্রভাব সমাজে প্রতিফলিত হবে।

যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এ মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যে দায়িত্ব পালন করছেন এ থেকে আপনাদের কাছে সমাজ ঋণী হয়ে থাকবে। এটা পেশা না হলেও একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। শুধু করোনাকালে নয় আপনাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতিকে আশার আলো দেখাবে।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু, শৈবাল দাশ সুমন, মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম, চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, কর্মশালার আইইডিসিআর’র প্রশিক্ষক ডা. মো.ওমর কাইয়ুম ও ডা. তৌহিদুল আনোয়ার।

উল্লেখ্য দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন।

জয়নিউজ/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...