চট্টগ্রামের ১২ হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসা দিতেই হবে

হাইকোর্টের নির্দেশ

0

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুয়ায়ী নগরের ১২টি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া চট্টগ্রামের পুরো চিকিৎসা পরিস্থিতি কী পর্যায়ে রয়েছে, তা প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের দু’জন আইনজীবীর করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জেবিএম হাসান।

আদেশে ১২ হাসপাতালের নাম উল্লেখ রয়েছে। এগুলো হলো- পার্কভিউ হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল, সার্জিস্কোপ হাসপাতাল, ডেল্টা হাসপাতাল, সিএসটিসি হাসপাতাল, সিএসসিআর হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসপাতাল, এশিয়ান হাসপাতাল, ওয়েল হাসপাতাল, মেট্টোপলিটন হাসপাতাল ও ম্যাক্স হাসপাতাল।

হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, করোনা উপসর্গ সন্দেহ করে কোনো রোগী যদি চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায় সেটি হবে ফৌজদারি অপরাধ।

মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. আজিজুল হক নামে দু’জন আইনজীবীর করা এই রিট পিটিশনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সহসম্পাদক মো. বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া।

আইনজীবী বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ ১২টি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল গত ৪ এপ্রিল। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ এই অবস্থান থেকে সরে আসে। গত কিছুদিন ধরে চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় দৃশ্যত যে চিকিৎসা সংকট তৈরি হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের দু’জন আইনজীবী ওই প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই পিটিশনের শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট শিগগির ৪ এপ্রিল দেওয়া চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৫ মার্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরােধ ও মােকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটির ৪ সদস্য সরেজমিনে পরিদর্শন করে চট্টগ্রামের ১২টি হাসপাতালের তালিকা চূড়ান্ত করেন।

চার ধাপে পর্যায়ক্রমে ওই হাসপাতালগুলোর আইসিইউ বেড ব্যবহারের কথা জানিয়ে গত ৪ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করেছিল চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে নানা নাটকীয়তায় সেই প্রজ্ঞাপন আর আলোর মুখ দেখেনি।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...