আঁয় কিছু পারি ন পারি, আঁয় অশান্তি গরিজি: রনি

0

সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ২২ সেকেন্ডের এ অডিওতে রনি চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ জাহেদ খানকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার কথা শোনা যায়।

২২ সেকেন্ডের অডিওতে যা ছিল তা হলো, তোঁয়ায় —(গালি) কেনে শান্তিতে থাকো। আঁই চ, আঁই শান্তিতে ন থাক্কুম, আঁয় —-(গালি) কেউরে শান্তি নইদ্দুম। আঁয় তোয়ারত্তুন বড় মানষরে শান্তি নদির। আঁয় কিছু পারি ন পারি, আঁয় অশান্তি গরিজি কিন্তু। (তুমি কিভাবে শান্তিতে থাকবে। আমি শান্তিতে থাকবো না, কাউকে শান্তিও দেবো না। আমি তোমার চেয়ে বড় মানুষকে শান্তি দিচ্ছি না। আমি কিছু পারি, না পারি কিন্তু আমি অশান্তি করতে পারি। )

এ সময় বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ জাহেদ বলেন, আপনি আমাকে ভুল বুঝিয়েন না। আমি আপনার সঙ্গে দেখা করবো। এ সময় গালি দিয়ে রনি বলেন, জাহেদ সাহেব, তোয়ার চ্যাডের বাল মিয়া। তুঁই দুই মাসেও দেখা গরিত ন পারো। (জাহেদকে গালি দিয়ে বলে তুমি দুই মাসেও দেখা করতে পারোনি)

চাঁদা দাবি করে কোচিং ব্যবসায়ীকে থাপ্পড় মেরে ছাত্রলীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার হন নুরুল আজিম রনি। সেই সময় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের অফিস কক্ষের প্রায় ৬ মিনিটের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, প্রথমে ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে আঙুল তুলে শাসিয়ে টেবিল চাপরাচ্ছেন রনি। একপর্যায়ে রাশেদের গালে থাপ্পড় মারতে দেখা যায় রনিকে। পরে চুল ধরে টানা-হেঁচড়া করে রাশেদের গালে কয়েকবার থাপ্পড় মারেন তিনি।

মাঝে মধ্যে চলতে থাকে তার ‘শাসন’। এভাবে প্রায় আড়াই মিনিট চলার পর রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান রনি। কয়েক মুহূর্ত পরই আবারো ফিরে এসে গালমন্দ করতে থাকেন। এই মুহূর্তে তাকে দীর্ঘ সময় কারো সঙ্গে ফোনালাপে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পুরো ঘটনায় কোচিং মালিক রাশেদকে হাতজোড় করে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেছে। এ ঘটনার পর ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন আজীবনের জন্য বহিস্কার করেন রনিকে।

এর আগে ২০১৬ সালের ৭ মে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে অস্ত্রের মহড়া দেন রনি। এ সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুন-উর রশীদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। তার কাছ থেকে এ সময় ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

কিছুদিন আগে রনির মামা সেই চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ত্রাণ নয়ছয় করার অভিযোগে বহিষ্কার হন।

জয়নিউজ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...