করোনায় মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য ভালোবাসা

0

অজানা আতঙ্কে আজ থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। করোনাভাইরাস যুদ্ধে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। পরিবার পরিজনের বাইরে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়েও ভাবনার সময় নেই কারো। সামর্থ্যবান মানুষগুলো স্বার্থপরের মত নিজেদের খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংরক্ষণ করে মুখ লুকিয়ে রয়েছে ঘরের মধ্যে।

কিন্তু ফুটপাতে শুয়ে থাকা, এদিক ওদিক ছুটে চলা মানসিক, শারীরিক, ভারসাম্যহীন মানুষগুলো পড়েছে বিপাকে।
খাবারের হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ থাকায় ফেলে দেওয়া ময়লাআবর্জনা থেকে খাবার কুড়িয়েও খেতে পারছেনা তারা।

লকডাউনে ক্ষুধার্ত মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষগুলোয় যেন সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু অন্ধকারের মাঝেও আলোক রশ্মি পথ দেখায় ঠিকই। তেমনি করোনা যুদ্ধের সংকটকালীন সময়েও মানসিক ভারসাম্যহীন পাগলদের দুঃখ দুর্দশা চোখ এড়িয়ে যায়নি মানবপ্রেমি রাজেশ দাশ নামে এক যুবকের। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার রান্না করে তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তারই ছোটভাই শিমুল দাশসহ কয়েকজন যুবক।  দিন-রাত খুঁজে খুঁজে মানসিক ভারসাম্যহীনদের হাতে খাবার ও পানির বোতল পৌঁছে দিচ্ছে নিয়মিত।

বান্দরবান শহরের বিভিন্নস্থানে রয়েছে ৩০ জনের মত ভারসাম্যহীন মানুষ।

উদ্যোক্তা মানবপ্রেমী রাজেশ দাশ জয়নিউজকে বলেন, অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে আমার ভালো লাগে। দরিদ্র, অসহায়, ভারসাম্যহীন মানুষগুলোর জন্য আমার মন কাঁদে। ছোট বেলা থেকেই এ কাজটি আমি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। অর্থনৈতিকভাবে নিজেও উচ্চবিত্ত কোনো পরিবারের সন্তান নয়। তারপরও ভালোবেসে সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায়, দরিদ্র, ভারসাম্যহীন ক্ষুধার্ত, বঞ্চিত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করি। এ কাজে আমি অনেক বেশি তৃপ্তি পায়। যতদিন বেঁচে আছি, মানবসেবায় কাজটি করে যেতে চায়।

এদিকে শিমুল দাশ জয়নিউজকে বলেন, বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় সমাজের মানসিক ভারসাম্যহীন পাগল মানুষগুলোর খাবার, পানির বোতল ও টিস্যু পেপার প্যাকেট করে হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছি। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজটি শুরু করেছিলাম। কিন্তু চলমান কর্মযজ্ঞে অনেকে অর্থ দিয়েছেন। আবার অনেকে রান্না করে খাবার সরবরাহ করছেন। সঙ্গে খাবার পানির বোতলও দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অনেক মানুষ। কাজটি করতে ভালো লাগছে। মনের মধ্যে একধরণের প্রশান্তি অনুভব করি।

কিন্তু সবচেয়ে কষ্টের কাজ হচ্ছে ওদের (পাগলদের) খুঁজে পাওয়া। ওরা তো এক জায়গায় সবসময় থাকে না। মোটরসাইকেল নিয়ে শহরের মেঘলা, বালাঘাটা, কালাঘাটা, নতুনব্রিজ, পুরনোব্রিজ, বাসস্টেশন, হাফেজঘোনা বিভিন্নস্থানে তাদের খুঁজে খুঁজে খাবার পৌঁছে দিতে হয়।

আবার শুধু প্যাকেট দিলেই হয়না। প্যাকেট খুলে খাইয়েও দিতে হয় অনেককে। মাঝে মাঝে ওদের আবদারও মেটাতে হয়। না হয় খাবার না খেয়ে ফেলে দেয়। এই কাজে আমার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী আরও আটজন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যারা আমাকে সহযোগিতা করছেন তারা হলেন-মোবিনুল ইসলাম জিকু, জিয়াউদ্দিন বাবলু, ইমরান উদ্দিন বাবু, মোঃ আইয়ুব, জাহেদুল ইসলাম, রিফাত মির্জা, রিজভী রাহাত ও আল-আমিন।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা সবার নেই। ক্ষুধার্ত সমাজের ভারসাম্যহীন মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে আমাদের সন্তানেরা। ওরা আমাদের গর্ব। করোনা মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি বিত্তবান, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতারাসহ অনেকে এগিয়ে এসেছেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ক্রান্তিকাল কাটিয়ে উঠবো।

জয়নিউজ/বিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...