করোনার রমজান: কোনটা খাবেন, কোনটা খাবেন না

0

বাঁচতে হলে খেতে হবে। লকডাউন হোক কিংবা কার্ফু, খাবার খাওয়াতো আর বন্ধ রাখা যাবে না।

করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে খাবার নিয়ে সচেতন হতেই হবে। যেহেতু এখনকার সময়গুলো স্বাভাবিক নয়, তাই খাবারে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।

রোজায় সবাই চান ভালো কিছু খেতে। তবে এক্ষেত্রে সবাইকে একটু সতর্ক হতে হবে। কারণ বিশেষ এ পরিস্থিতিতে বাইরের খাবার না খাওয়াই সবচেয়ে উত্তম। কারণ বাইরে যারা খাবার বানান তাদের হাইজিন সম্পর্কে আমরা জানি না।

কী খাবেন?

আমরা সবাই জানি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই পারে করোনাকে পরাজিত করতে। এজন্য বাড়াতে হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বেশি করে খেতে হবে হবে। তবে খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

ফলের মধ্যে লেবু, কমলালেবু, মৌসাম্বি, আঙুর, তরমুজ খেতে পারেন। সবজির মধ্যে খাওয়া যায় পালং শাক, কাঁচামরিচ, মিষ্টি আলু, গাজর, বাঁধাকপি ও ফুলকপি।

মনে রাখবেন, যেসব ফল এবং সবজি নীল, লাল, কমলা, হলুদ ও পার্পেল রঙের সেগুলি আমাদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন (যেমন বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই) সরবরাহ করে। এসব উপাদান আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

একইসঙ্গে খেতে হবে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। এর মধ্যে রয়েছে দুধ, দই, সয়াবিন, ডিম ইত্যাদি।

শ্বেত রক্তকণিকা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এই কোষগুলি অ্যান্টিবডি তৈরি করে। যা শরীরে আক্রমণকারী ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। এই অ্যান্টিবডি হলো প্রোটিন। তাই ডায়েটে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন রাখা জরুরি।

করোনার কারণে বাজারে খুব কমই তাজা মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তাই খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন মুরগির মাংস। মুরগির মাংস নিয়ে গুজবে কান দিবেন না। ভালো করে সিদ্ধ করে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন মুরগির মাংস।

কী খাবেন না?

আগেই বলেছি, এখন সময়টা স্বাভাবিক নয়। তাই বাইরের খাবার খাবেন না। অর্থাৎ এই রমজানে বাইরের খাবার বর্জন করতে হবে।

গরমের কারণে অনেকেই আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংকস খেতে চান। এগুলো একেবারেই বর্জন করতে বলবো না, তবে অল্প পরিমাণে খাবেন।

ভাবছেন, আইসক্রিম-কোল্ড ড্রিংকসে কি করোনা আছে? না, এগুলোতে করোনা নেই। কিন্তু এগুলো বেশি খেয়ে ঠাণ্ডা লাগলে আপনার ইমিউনিটি এফেক্টেড হবে। করোনার এই সময়ে নিশ্চয়ই আপনি এটা চান না।

গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে এমনকিছু খাবার আছে, যেগুলি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এইসময় এগুলো খাবেন না।

প্রসেসড ফুড যেমন গ্র্যানোলা বার, মাইক্রোওয়েভড পপ কর্ন, টমেটো সস, ফ্রোজেন ফুড, কুকিজ, কর্নফ্লেক্স ও চিপস বর্জন করুন।

চিনি রয়েছে এমন পানীয়কে না বলুন। একইসঙ্গে না বলুন পিৎজা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসহ সব ফাস্ট ফুডকে।

ক্যাফেন ও চকোলেট রয়েছে এমন খাবারও না খাওয়াই ভালো। যেমন- কফি, এনার্জি ড্রিঙ্ক, সোডা, ব্ল্যাক টি, ডার্ক চকোলেট, ডায়েট সোডা, কুকিজ, পেস্ট্রি ইত্যাদি।

সতেজ থাকুন

মনে রাখবেন, শরীর হাইড্রেটেড থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই শরীর হাইড্রেটেড রাখতে ইফতারের সময় এবং সাহরির আগ পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণ জল পান করুন। খেতে পারেন লেবুজল ও ডাবের পানি।

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...