৫ ঘণ্টা রাস্তায় লাশ, ছুঁয়ে দেখেনি কেউ

0

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা মো. সেলিম (৪৮) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। সোমবার রাত থেকে তার শরীর অতি মাত্রায় খারাপ হওয়াতে সেন্টমার্টিন পশ্চিমপাড়া নিজ বাড়ি থেকে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখাতে বের হন তিনি।

সেলিম হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে রাস্তায় পড়ে যান। কিছুক্ষণ পর অজ্ঞান হয়ে গেলে করোনা আক্রান্ত রোগী ভেবে কেউ যাননি পাশে। এর কিছু সময় পরে মারা যান সেলিম।

মারা যাওয়ার আরো কিছু সময় পরে এলাকাবাসী জানতে পারে সেলিম মারা গেছে। ৪/৫ ঘন্টা পর পুলিশের তত্ত্বাবধানে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানাজা শেষে তাকে দাফন করেন।

তবে এ দাফন কার্যেও ছিল না পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনরা। নিহত সেলিম পেশায় একজন জেলে। সেন্টমার্টিন পশ্চিমপাড়ার মো. হারুনুর রশিদের মালিকানাধীন ফিশিং বোটের মাঝি ছিলেন তিনি।

ফিশিংবোট মালিক হারুনুর রশিদ জয়নিউজকে বলেন, কয়েকবছর ধরে তার ফিশিং ট্রলারে মাছ ধরার কাজ করেন সেলিম। তবে সে মাঝে মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাছ ধরতেও যেতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে সে অসুস্থতায় ভুগছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু বক্কর জয়নিউজকে বলেন, সেলিম অনেক দিন ধরে অসুস্থ। প্রায় সময় ডাক্তার দেখাতে টেকনাফ যাওয়া হয়। কয়েকদিন আগে তার খাবার ওষুধ শেষ হয়ে যায়।

স্থানীয়ভাবে ডাক্তার দেখাতে সেন্টমার্টিন পশ্চিমপাড়া নিজ বাড়ি থেকে সকাল ৮ টায় বের হয়। কিছুক্ষণ পর খবর পাওয়া যায় জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে রাস্তায় পড়ে যায় সে। তার স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ জয়নিউজকে বলেন, সেলিম করোনা আক্রান্ত নন। কিন্তু এখন মানুষ মরলেই করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে ভয়ে আশপাশে আসে না। স্থানীয়রা করোনা আক্রান্ত ভেবে লাশটি ধরেননি। খবর পেয়ে পুলিশের তত্ত্বাবধানে সাড়ে ১২টার দিকে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। তারপরও যারা জানাযা ও দাফনের কাজ করেছে তাদেরকে ১৫ দিনের হোম কোয়ারেন্টানে রাখা হয়েছে।

জয়নিউজ/শামীম/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...