পেকুয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা না আত্মহত্যা

0

কক্সবাজারের পেকুয়ায় জান্নাতুল ফেরদৌস নামে (২২) এক প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা আবদুল হামিদ সিকদার পাড়ার লিবিয়া প্রবাসী বাদশার স্ত্রী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের ভারুয়াখালী এলাকার জাফর আলমের মেয়ে।

এদিকে নিহতের মা নুরুন্নাহারের দাবি শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

সোমবার ( ১৩ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে স্বামী বাদশার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

নিহতের মা নুরুন্নাহার জয়নিউজকে বলেন, দুই বছর আগে উত্তর মেহেরনামার হাছিম আলীর ছেলে বাদশার সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। এক বছর আগে আমার মেয়ে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এরপর স্বামী লিবিয়া চলে যায়। স্বামী লিবিয়া চলে যাওয়ার পর থেকে তার স্বামীর মা আনোয়ারা বেগম, তার জাঁ ও দুই ননদ মিলে বেশ কয়েকবার মারধর করে।

তিনি আরো বলেন, তার শ্বশুর বাড়ি এলাকার ইউপি সদস্য ইসমাঈল সিকদার ও আমাদের ইউপি সদস্য মো. ইউনুছ বেশ কয়েকবার মেয়েকে মারধর আর নির্যাতনের বিষয়ে মিমাংসা করে দেন। বিগত কয়েকদিন আগেও তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে ইউপি সদস্য ইসমাঈলের মধ্যস্ততায় তাকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে যায়।

সোমবার সকালে তার বোন ফরিদাকে ফোন দেন নিহত জান্নাতুল। ফোনে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মারধর করছে বলে জানান। এর কিছুক্ষণ পর জানতে পারি তার মৃত্যুর খবর। শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

নিহতের বোন ফরিদা বেগম জয়নিউজকে বলেন, আমার বোনকে বেশ কয়েকবার নির্যাতন করেছে তারা। তার প্রতিবেশি স্থানীয় একজন আমাকে জানায় বোন গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা গেছে। আমরা গিয়ে দেখি তার লাশ মাটিতে শুয়া অবস্থায়। তাকে গলাটিপে হত্যা করে ফাঁস লাগানোর কথা প্রচার করেন শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

এব্যাপারে ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল সিকদার জয়নিউজকে বলেন, এর আগে পারিবারিক ঝগড়া নিয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে শালিস করেছি ঠিক। তবে আজকের ঘটনা কি হয়েছে সেই বিষয়ে আমি অবগত নয়। এদিকে একই কথা বললেন, ইউপি সদস্য মো. ইউনুছও।

নিহতের শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া না গেলেও নিহতের চাচাশ্বশুর আলী আহমদ জয়নিউজকে বলেন, সকালের দিকে আমার ভাই হাছিম আলী জানিয়েছেন তাদের পুত্রবধূ জান্নাতুল গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ লাশ নিয়ে গেছে এর বেশি কিছু বলতে পারবনা।

পেকুয়া থানার এসআই সঞ্জিত জয়নিউজকে বলেন, আমরা যাওয়ার পর লাশটি মাটিতে শুয়া অবস্থায় দেখেছি। আত্মহত্যা করেছে কি-না, নাকি মারধরে মারা গেছে তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া বলতে পারব না।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল আজম জয়নিউজকে বলেন, গৃহবধূর লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়নিউজ/গিয়াসউদ্দিন/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...