করোনা মোকাবেলায় একাই লড়ছেন ইউএনও

0

মরণঘাতি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় একাই লড়ছেন মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিভীষণ কান্তি দাশ।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক থাকার সরকারি নিদের্শনা থাকলেও তা মানছেন না কেউ। তেমনিভাবে মাটিরাঙা পৌরসভা ও সাত ইউনিয়নের বাসিন্দারাও মানছেন না সরকারি নির্দেশনা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) পর্যন্ত চিকিৎসক ছাড়া মাটিরাঙার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার ববি, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজকুমার শীল, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রূপঙ্কর চাকমা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ আমরাফ উদ্দিন, উপজেলা রিসোর্স ইনস্ট্রাক্টর মো. আসগর হোসেন ও সহকারী প্রোগ্রামার রাজীব রায় চৌধুরী ছাড়া কোনো কর্মকর্তাকেই কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। ফলে জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে মাটিরাঙায় করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সরকারের নিদের্শনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ওই ইউএনও।

এদিকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সাধনসহ জনসচেতনা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি পৌরসভা ও সাত ইউনিয়নে আটজন ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও পৌরসভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার ববি, তাইন্দং ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ আমরাফ উদ্দিন এবং বড়নাল ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা রিসোর্স ইনস্ট্রাক্টর মো. আসগর হোসেন ছাড়া আর কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে এসব ইউনিয়নে সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণসহ জনসচেতনা কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে।

দেশের এ ক্রান্তিকালে সরকারি নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির পাটোয়ারি, সমবায় কর্মকর্তা মো. আমান উল্ল্যাহ চৌধুরী, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এসএম রুবাইয়াত তানিম, শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মাসুম ভূঁইয়া, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ওবায়েদুল হক ও মৎস কর্মকর্তা আরিফুর রহমান কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে কোনো কর্মকর্তার সহযোগিতা না পেলেও উপজেলা পরিষদের কর্মচারী ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় কর্মহীন লোকদের সরকারি খাদ্য সহায়তা বাড়ি বাড়ি পৌছে দিচ্ছেন ইউএনও।
সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও আমতলী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর পাটোয়ারী ইউএনও’র কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

তবে তার এ দাবি মিথ্যাচার দাবি করে ইউএনও জয়নিউজকে বলেন, এ পরিস্থিতিতে ছুটি দেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। এমনকি তিনি বা কোনো কর্মকর্তা আমার কাছে লিখিত বা মৌখিকভাবে ছুটিও চায়নি।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, কর্মকর্তাদের থাকার আবাসিক ভবন বয়েছে কিন্তু কেউ কেউ থাকলেও অনেকেই শুরু থেকেই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। সরকারের নিদের্শনানুযায়ী সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার বিষয়টি প্রতিটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দু’চারজন কর্মকর্তা ছাড়া আর কাউকে না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা উপক্ষো করে কর্মস্থল ত্যাগ করা কোনোভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়।

জয়নিউজ/জাফর/বিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...