১৯ জনের ভিড়ে শুধুই ‘১’ মেয়র নাছির

0

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের (চসিক) তারিখ ঘোষণার পর মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় ফরম নিতে হিড়িক পড়ে। চেনা-অচেনার ভিড়ে একে একে মনোনয়নপত্র নেন ১৯ জন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী।

জনগণের সেবা করার ইচ্ছে পোষণ করা প্রার্থীরা চসিক নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মাঠে নেই! শুধু মাঠে আছেন একজন, তিনি হলেন- বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

চসিক নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও বিন্দুমাত্র অভিমান না দেখিয়ে দেশের এ ক্লান্তিলগ্নে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তে কাজ করে চলেছেন তিনি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন মেয়র নাছির।

করোনা মোকাবেলায় মানুষকে সচেতন করতে নগরের বিভিন্ন অলিগলিতে নিজে মাইকিং করছেন। বিতরণ করছেন সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এছাড়া নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিজ দায়িত্বে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন সাবান। দিনমজুর শ্রমিকদের বিতরণ করেছেন চাল, ডালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। নগরের অলিগলি, মূল সড়কে গত দুইদিন ধরে ছিঁটানো হচ্ছে ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি।

আ জ ম নাছিরের এসব কাজে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। তার প্রশংসা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকেও। সেখানে বিভিন্ন জন করোনা মোকাবিলায় মেয়র নাছিরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশংসা করে বিভিন্ন পোস্ট দিতে দেখা গেছে।

তেমনই এক পোস্ট করেন সময় টেলিভিশন চট্টগ্রাম ব্যুরোর নিজস্ব প্রতিবেদক পার্থ প্রতীম বিশ্বাস। তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির চাইলে হাজারো দোষ খুজে পাওয়া যায়, হয়ত একজন আ জ ম নাছিরের ও অনেক দোষ আছে …….কিন্তু শত দোষের মধ্যেও, অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তির মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অন্যতম …….বিপদে পড়লে বুঝা যায় কার দৌড় কতটুকু।নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সাধারন মানুষের সেবা করতে ও সাহসের দরকার হয় ………আমাদের গণমাধ্যম কর্মীদের ক্ষুদ্র প্রয়াসে ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সিটি মেয়র।আমাদের উদ্যোগের কথা শুনে নিজ থেকেই তিনি ভালবাসার হাত বাড়িয়েছেন ………

ঘরে বসে থেকে বড় বড় লেকচার মারা যায়।বাস্তবে সাধারন মানষের কি শোচনীয় অবস্থা তা বোঝার জন্য মাঠে নামতে হয়।সাধারন মানুষের যে কি হাহাকার তা বুঝতে হলে তাদের কাছে যেতে হবে।এখনকার দিনে কেউ এসে বলে না আমার, অামার সন্তানের পেট অভুক্ত। হয়ত না খেয়েই দিনযাপন করতে হচ্ছে তাদের ……….তারপরও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, আপনারা যারা হেভিওয়েট রাজনীতিবিদ তারা ঘরে বসে থাকুন, সুস্থ থাকুন। আর আমার এই পোস্টটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত। কারো ভাল না লাগলে চোখ ফিরিয়ে নিলেই হল। দয়া করে রাজনীতির সাথে মিশাবেন না ……….’

কমল দাশ নামে এক চিত্র সাংবাদিক লিখেছেন, ‘চট্টগ্রাম শহরে অনেক নেতা আছেন। বড় বড় নেতা পোস্টার এবং টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে দেখা যায় আর চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় বসে বড় বড় জ্ঞানের স্ট্যাটাস দেওয়া যায় কিন্তু এই শহরে কাউকে কিছু করতে দেখা যায় না। ভালো-মন্দ মিলিয়ে মানুষ কিন্তু দোষ সবারই আছে কিন্তু জননেতা আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মন-মানসিকতার নেতা শুধু একজনেই এই শহরে মেয়র আজম নাছির উদ্দিন। দয়া করে এই পোস্টকে কারো ব্যক্তিগত ভাবে নিবেন না আর আমার বুকে হাত রেখে হলফ করে বলতে পারি আমি ব্যক্তি আজও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন থেকে কোনদিন এক গ্লাস পানি খায়নি । সাদা চোখে যা দেখছি তাই প্রকাশ করছি।’

সালে আহমদ নামে একজন লিখেছেন, ‘কাজ যারা করেন তাদের সমালোচনাও বেশি। অপরদিকে যারা কাজ করেন তাদের ইমেজ ক্লিন। এই হলো আমাদের সমাজের অবস্থা। একজন আ জ ম নাছির উদ্দীনকে বাঁশ দেওয়ার জন্য অ্থাৎ মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য ৭/৮ জন শীর্ষনেতা এক হলেন। আ জ ম নাছিরকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তারা যে খুঁশি হয়েছেন। কিন্তু দুঃসময়ে একজন নাছিরই মাঠে থাকে, জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী হয়ে কাজ করে।’

আরেক সংবাদকর্মী অনুপম পার্থ চট্টগ্রামের এক জনপ্রতিনিধিকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন, ‘উনার পিতা: অসংখ্যবার অসংখ্য অসহায়-দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফিল্ড হাসপাতাল, লঙ্গরখানা আরও কতভাবে মানুষের জন্য দিনের পর দিন। স্বাধীন দেশেও বুলেটের সামনে বুকে পেতে দিয়েছেন সাধারণ মানুষের জন্য।

স্বাধীনতার আগের কথা বাদই দিলাম। শ্রমিক-মজুর-মেহনতী মানুষ কখনও উনার দুয়ার থেকে খালি হাতে কিংবা খালি মুখে ফিরতে পারেনি। এইরকম কতো সত্যি গল্প, কতো অসংখ্যবার চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের চোখে জল নামিয়েছে। আমার চোখের পাতাও ভিজেছে।

উনি: দূর …! সবাই কি আর বাবার মতো হয় নাকি…!!’

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...