চেম্বারে নেই ডাক্তার, জ্বর থাকলেই ফিরিয়ে দিচ্ছে প্রাইভেট হাসপাতাল

0

মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট এলাকার শফিকুর নাহার। ৬৫ বছরের এই বৃদ্ধা হঠাৎ করে তার কানের সমস্যা। তাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে নগরে আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। শনিবার (২১ মার্চ)সন্ধ্যা থেকে ডাক্তার দেখাতে ছুটে বেড়িয়েছেন তিন চারটি ডাক্তাতের চেম্বার। না কোথাও ডাক্তার পাননি। পরে অনেক খোঁজাখুজির পর মেহেদীবাগের এক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বারে যান। অবশেষে ডাক্তার দেখিয়ে নিলেন ব্যব্স্থাপত্র।

শুধু শফিকুর নাহার নন। নগরের প্রায় সব ডাক্তারের চেম্বারে শনিবার সিরিয়াল নেওয়ার পরও ডাক্তাররা আসেননি। তাই ডাক্তার না দেখিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে অনেক রোগীকে। তবে যারা নগরের বাইরে থেকে এসেছিলেন তারা পড়েছিলেন সবচেয়ে বেশি বিরম্বনায়।

শনিবার নগরের বেসরকারি বিভিন্ন ডাক্তারদের চেম্বার ঘুরে দেখা ডাক্তাররা গিয়েছেন অঘোষিত ছুটিতে।

জানা যায়, দেশে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব হওয়ার পর হঠাৎ করেই নগরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তারদের চেম্বার বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে নিয়মিত রোগী দেখা হলেও এখনও বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসার সেবা নেন এসব ডাক্তারের চেম্বার থেকেই। আর ডাক্তাদের এমন আকস্মিক চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে চরম হতাশায় পড়েছেন রোগী ও রোগীর স্বজনরা। অন্য রোগের সঙ্গে যদি জ্বর, সর্দি বা কাশি থাকে এমন রোগীকেও চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন  ডাক্তাররা। কেউ কেউ চেম্বারের দরজার সামনেই সাঁটিয়ে দিয়েছেন ‘শ্বাসকষ্ট/জ্বর/কাশির রোগী দেখা হয়না’ এমন লেখা সম্বলিত নির্দেশনা।

ডাক্তারদের চেম্বারে গেল কয়েকদিন রোগের ব্যবস্থাপত্র নিয়েছেন অনেক রোগীদের আছে নানা অভিযোগ। রেগীরা বলছেন, ডাক্তার চেকআপ না করে শুধু রোগের বিবরণ শুনেই দিয়েছেন ব্যবস্থাপত্র।

এদিকে রোগীর অন্য কোনো রোগের সঙ্গে জ্বর-সর্দি থাকলেই আবার ভর্তি নিচ্ছে প্রাইভেট হাসপাতালগুলো।

এমনি একজন দেওয়ান বাজার এলাকার রবিন (২৬)। তিনি চার পাঁচ দিন ধরে জ্বার ভুগছিলেন। ল্যাবে টেস্ট করার পর জানা গেল তার টাইফয়েড। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালের কেবিনে থেকে দিতে হবে ইনজেকশন। কিন্তু রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকেই নগরের সব হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে স্বজনরা ফিরলেন ব্যর্থ হয়ে। কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে টাইফয়েড হয়েছে জানার পরও ভর্তি নিচ্ছে না তাঁকে।

একদিকে চেম্বারে ডাক্তার নেই, প্রাইভেট হাসপাতালে জরুরী প্রয়োজনে ভর্তি হতে পারছেন না রোগীরা। আবার সরকারি হাসপাতালে সময়মত পাওয়া যায়না কেবিন-আইসিইউ সবমিলিয়ে একরকম নিরুপায় হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

তাদের অভিযোগ, অন্যকোনো রোগ বেড়ে গেলে জ্বর আসতে পারে। কিন্তু ডাক্তাররা চেম্বারে রোগী দেখছেন না। রোগ বেড়ে গেলে জ্বর থাকার কারণে ভর্তি হতেও পারছেন না। আবার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেতেও বেগ পেতে হয়। এখন করোনার অজুহাতে যদি ডাক্তার ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলো দায় এড়িয়ে চলেন তাহলে অবস্থা হবে আরো ভয়াবহ।

এব্যাপারে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জয়নিউজকে বলেন, প্রাইভেট চেম্বারের চেম্বরগুলো আয়তনে ছোট। যদি চেম্বারে বেশি জায়গা হতো তাহলে সর্দি কাশি জ্বর রোগী আসলে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে দেখতে পারতেন। তাই এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। অনেকে হয়তো চেম্বার বন্ধ করছেন না। কিন্তু সর্দি কাশি রোগীদেরকে মেডিকেলে যেতে বলছেন।

তিনি আরো বলেন, যদি সাধারণ সদি কাশি হয় তাহলে সেটা বাসায় ঠিক করা যায়। যদি চিকিৎসার প্রয়োজন মনে হয় তাহলে আমাদের হাসপাতালে ফ্লু কর্ণারগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে অন্য রোগীদের চেম্বারে চিকিৎসা দিতে ডাক্তার বা প্রাইভেট হাসপাতালগুলো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

করোনা ভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি সর্ম্পকে তিনি বলেন, বর্তমানে ৯৭৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী নেই।

জয়নিউজ/পিডি

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...