৫ বছর ধরে খালি চট্টগ্রাম কলেজের ৫ হল

0

চার বছর ধরে বন্ধ চট্টগ্রাম কলেজের পাঁচটি আবাসিক হল। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। মূলত ওই ঘটনার পর থেকেই বন্ধ এসব আবাসিক হল। এ পাঁচটি হলের তিনটি ছাত্রদের , একটি ছাত্রীদের। এর বাইরে আরেকটি ছাত্রী হল নির্মাণ করা হলেও সেখানে এখনো কাউকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

এদিকে আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে যারা গ্রাম থেকে আসেন তাদের ভোগান্তি এখন চরমে। চট্টগ্রাম কলেজের বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। ক্রমবর্ধমান এই শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পাঁচটি আবাসিক হলের অচলাবস্থা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার বাড়ি কক্সবাজার। প্রতিদিন এত দূর থেকে এসে ক্লাস করা সম্ভব না। শহরে থাকার সামর্থ্যও নেই। নিয়মিত ক্লাস না করলেও পড়তে হয় নানা সমস্যায়। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি হল খুলে দেওয়ার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই কলেজের আবাসিক হলগুলো প্রায় তিন দশক ধরে শিবিরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। একক আধিপত্যের ফলে অনেকে চট্টগ্রাম কলেজকে শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে অভিহিত করতেন। বর্তমানে শিবিরের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই। তবে সংঘর্ষের পর থেকে ক্যাম্পাসে পুরো নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের।

গত বছরের ২২ জানুয়ারি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবুল হোসেন হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে তিনি সভায় উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রীনিবাস। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের শুরুর দিকে। ২০১৯ সালের ৩ আগস্ট শেখ হাসিনা ছাত্রীনিবাসে বরাদ্দ নোটিশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগস্টের ৭ ও ৮ তারিখ আগ্রহী ছাত্রীরা আবেদন ফরম সংগ্রহ করেন। পরে অজ্ঞাত কারণে এ  হলটি আর খোলাই হয়নি।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজও। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে চার বছর ধরে হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে হলগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে  না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মুজিবুল হক চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, পুরাতন হলগুলো ব্যবহারের উপযুক্ত নেই। এগুলো মেরামত করতে হবে। তবে সদ্যনির্মিত শেখ হাসিনা ছাত্রীনিবাসে আবেদন যাচাই-বাছাই করে আগামী জুলাই অথবা আগস্টের শুরুর দিকে খুলে দিতে পারবো।

জয়নিউজ/মিজান/পিডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...