হাজারো গল্পের ভিড়ে অনন্য ‘গুনিন’

0

বইমেলায় হাজারো বইয়ের মেলা। কোনো বইয়ের শিরোনামটা অসাধারণ, আবার কোনোটির প্রচ্ছদ। অজস্র বইয়ের মাঝে একটি বইকে একটু আলাদা মনে হলো।

আলাদা বলছি বইটির শিরোনামের জন্য। গল্পগ্রন্থটির নাম ‘গুনিন’।

শব্দটি আমার কাছে নতুন। আর নতুন মানেই কৌতুহল। হাতের কাছে বাংলা অভিধান নেই তাই মুঠোফোন খুলে গুগলে সার্চ দিলাম। গুনিন শব্দের অর্থ পাওয়া গেল- মন্ত্রবিদ্যাবিদ্‌, কুহকী, ওঝা, গণৎকার।

বইটি সঙ্গে নিয়ে এলাম। আর বাসায় এসে বাংলা একাডেমির অভিধানে শব্দটির অর্থ খুঁজলাম। খুব বেশি হেরফের হলো না। সঙ্গে বাড়তি অর্থ হিসেবে পেলাম ‘বাজিকর’।

মনে হলো লেখক হয়ত বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ করতেই বইটির এমন নামকরণ করেছেন। এতক্ষণ কত কী বললাম, এখনো লেখকের নামটাই যে বলা হলো না!

গুনিন- বইটির লেখক মো. সাইফুর রহমান। রহমান আজাদের প্রচ্ছদে বইটির প্রকাশক আফসার ব্রাদার্স।

বিশাল ভাবনাকে ছোট্ট পরিসরে আবদ্ধ করে আবেগ-ভালোবাসায় সেটিকে গল্পে পরিণত করেছেন লেখক। অল্প কথায় গল্প লেখার কাজটি সুনিপুণভাবে করেছেন তিনি।

গুনিন সাজানো হয়েছে ২৩টি গল্পে। এসব গল্পের কোনোটি রোমান্স, আবার কোনোটি থ্রিলার কিংবা ট্র্যাজিক। তবে প্রতিটি গল্পই জীবনঘনিষ্ঠ। প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত। গল্পের মধ্যদিয়ে লেখক যেন তুলে ধরেছেন সমাজের চরিত্রগুলো।

বইয়ের প্রথম গল্প ‘প্রিয়জন’। গল্পের প্রধান চরিত্র আহসান সাহেব বিবাহিত। তার সন্তান আছে। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় এলোমেলো হয়ে গেছে তার জীবন। এরপর গল্প এগিয়ে যায় অনন্য এক পরিণতিতে।

বইটির উল্লেখযোগ্য আরো কিছু গল্পের মধ্যে রয়েছে- বাবা, নাফিজার খোঁজে, ধোঁকা, খোকা, নীলার নীলপদ্ম, সারপ্রাইজ।

গল্পের চরিত্রগুলো যেন আমাদের আশপাশে আছে। প্রতিটি চরিত্রকে অসাধারণ লেখনশৈলীতে তুলে ধরেছেন লেখক। শব্দ প্রয়োগ আর বাক্য গঠনও এককথায় চমৎকার। অনন্য দক্ষতায় লেখক তুলে ধরেছেন সমাজের ব্যাধি, পারিবারিক অবক্ষয়।

গ্রন্থটিতে কল্পনাশক্তির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন লেখক। তবে কল্পনার মাঝে তিনি হারিয়ে যাননি। হারিয়ে যেতে দেননি পাঠকদেরও। কল্পনাশক্তির মাঝেই তিনি তুলে ধরেছেন কঠিন বাস্তবতা।

পাঠককে ঘোরের মধ্যে রেখেই লেখক এক প্লট থেকে অন্য প্লটে নিয়ে গেছেন দারুণ দক্ষতায়। পাঠক যেন গল্পের মাঝপথে চলে না যান সেজন্য প্রতিটি ধাপেই তিনি রহস্য রেখেছেন। গল্পের শেষ না যাওয়া পর্যন্ত এ রহস্যে তিনি ছেদ পড়তে দেননি। টানটান উত্তেজনা নিয়ে পুরো গল্পজুড়ে পাঠককে ধরে রাখার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লেখক।

এটি লেখকের প্রথম প্রকাশনা। অভিষেকেই লেখক বাংলা সাহিত্যে তাঁর শক্তিশালী আগমনী বার্তা দিয়ে রাখলেন। প্রত্যাশা করছি, ‘গুনিন’ লেখকের সাহিত্যজীবনে ‘গুনিন’ হয়েই থাকবে।

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...