কারো অর্থবিত্ত দেখে আ’লীগে কোনো পদ-পদবি দেওয়া যাবে না: তথ্যমন্ত্রী

0

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কারো অর্থবিত্ত দেখে আওয়ামী লীগে কোনো পদ-পদবি দেওয়া যাবে না। অমুকের পয়সা আছে, দল চালাতে সুবিধা হবে, এই বিবেচনায় কাউকে পদ দেওয়া যাবে না। এটি আমাদের দলের রাজনীতি ও আদর্শ নয়।

তিনি বলেন, পরপর তিনবার ক্ষমতায় থাকার কারণে দলের মধ্যে অনেক সুবিধাবাদি ও অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। যারা একসময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করেছে এবং নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেছে তারা এখন এ সংগঠনের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। যারা অনুপ্রবেশকারী সুবিধাভোগের জন্য দল করছেন তাদের চিহ্নিত করে পদ থেকে তাদের সরিয়ে দিতে হবে। দল ও আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা এবং নেত্রীর প্রতি একাগ্রতাই হবে দলীয় পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা।

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাবনা জেলা শাখার তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল রহিম লাল। সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুখ প্রিন্স এমপির সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মো. নাসিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন।

ড. হাছান বলেন, আজকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। এ কৃতিত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনার। তিনি সমস্ত প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ধীরস্থির থেকে সমস্যা মোকাবেলা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে পদার্পণ করেন। এরপর বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে মায়ের মমতায় বোনের স্নেহে লালন করে বারবার মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসেছেন। আরো প্রত্যয়ী হয়ে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভোট এবং ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এবং আওয়ামী লীগকে চারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে গেছেন।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই সংকটে পড়েছে তখন অনেক বড় নেতা ভোল পাল্টিয়েছে, অনেকে দল ছেড়ে চলে গেছে। এটি শুধু শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে ঘটেছে তা নয়। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু যখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছে তখনও ঘটেছে।

১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের জন্মের পর থেকে সমস্যার বাঁকে বাঁকে অনেক নেতা বাঁকা হয়ে দল থেকে চলে গেছে। দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছে। কিন্তু তৃণমূলের কর্মীরা কখনো দলের সঙ্গে বেঈমানি করেনি। তৃণমূল সবসময় দল ও নেতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকেছে, বিশ্বস্থতার সঙ্গে কাজ করেছে। সেই কারণে আওয়ামীলীগ আজ দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং পরপর চারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়।

তিনি বলেন, পরপর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে আমাদের অনেকের মধ্যে আলস্যতা এসেছে। এই আলস্য ঝেড়ে ফেলতে হবে। দলের কারণে সরকার, সরকারের কারণে দল নয়। আমাদের মূল ঠিকানা দল। সুতরাং সবাইকে দলকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা যারা নির্বাচিত এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান পর্যন্ত সবার মূল ঠিকানা হচ্ছে দল। সবাই এখন দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। দলের কারণে সবাই আমরা পদের মধ্যে আছি। সুতরাং দায়িত্ব পালন করার সময় দলের নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, বেগম আখতার জাহান উপস্থিত ছিলেন।

জয়নিউজ/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...