৬০ কেজি তরল আফিম উদ্ধার করলো র‌্যাব

0

বান্দরবানের রুমায় নিষিদ্ধ পপি চাষ ধ্বংসে অভিযান চালিয়ে ৬০ কেজি তরল আফিম (পপি ফুলের রস) উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব -৭ অধিনায়ক লে. কর্ণেল মশিউর রহমান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার রুমা উপজেলার রেমাক্রি পাংসা ইউনিয়নের পর্বতশৃঙ্গ ক্যাওক্রাডং পাহাড়ের দুই কিলোমটার দূরে নিষিদ্ধ পপি বাগানের সন্ধান পায় র‌্যাব।  খবর পেয়ে ক্যাওক্রাডং পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে অভিযান চালায়। অভিযানে পাহাড়ের ঢালে পাহাড়ি ছড়া-ঝিরির পাশে পাঁচ একর এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা ৪টি নিষিদ্ধ পপি বাগান সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়।  এ সময় বাগানে উৎপাদিত পপি গাছ এবং ফুলের গোটাগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
র‌্যাব আর ও জানায়, এসময় প্রায় ৬০ কেজি তরল আফিম (পপি ফুলের রস) উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ৯০ সালের প্রথমদিকে জেলার থানছির দুর্গমাঞ্চলে নিষিদ্ধ আফিম (পপি) চাষ শুরু হয়। প্রথমদিকে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নবাদী সন্ত্রাসীরা সীমান্তের নৌম্যান্স ল্যান্ডে আফিম চাষ করলেও বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভ ফরেস্টের সংরক্ষিত বনাঞ্চলেও আফিম চাষ করা হচ্ছে। আর আফিম চাষের শ্রমিক হিসেবে এখন দুর্গমাঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়িদের বেঁচে নিয়েছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা। স্থানীয় পাহাড়ীরাও বর্তমানে জড়িয়ে পড়েছে নিষিদ্ধ আফিম চাষে।

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বান্দরবানের থানচি, রুমা, আলীকদম এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পাহাড়ে এবং রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় পাহাড়ে জুম চাষের আড়ালে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে সন্ত্রাসীরা নিষিদ্ধ আফিম চাষ করে আসছে।

র‌্যাব-৭ অধিনায়ক মশিউর রহমান জয়নিউজকে বলেন, পার্বত্য জনপদের রুমার দুর্গমাঞ্চলে পাহাড়ে নিষিদ্ধ পপি চাষ হচ্ছে খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রুমা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ক্যাওক্রাডং পাহাড়ের আশপাশের এলাকাগুলো তল্লাশি করে ৪টি পপি বাগান পাওয়া যায়। পপি বাগানগুলো ধ্বংস করে আগুনে পোড়ানো হয়। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬০ কেজি পপির রস উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাগানের জায়গার মালিককে খোঁজা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

জয়নিউজ/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...