বোয়ালখালীতে বিএনপির প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ

0

বোয়ালখালীতে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান আওয়ামী লীগের কর্মীদের হাতে অবরুদ্ধের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার নবাব আলী চৌধুরী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও মেয়র হাজী আবুল কালাম আবু বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমদ খানসহ নবাব আলী চৌধুরী বাড়ি এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় গেলে আওয়ামী লীগের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আমরা মানুষের বাড়ি-ঘরে আশ্রয় নিই।

দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ওই এলাকা ত্যাগ করি। নির্বাচনি প্রচারণায় যাওয়া বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষদের মারধর করে আহত করেছে তারা।

এবিষয়ে আবু সুফিয়ান জয়নিউজকে বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত সময়ে পশ্চিম গোমদণ্ডীর মনসুর আউলিয়ার মাজার জেয়ারত শেষে আমরা যখন গণসংযোগ শুরু করি, তখন সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা আমাদের মিছিলে পেছন থেকে হামলা করে। স্থানীয়রা এবং আমাদের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তাক আহমেদ খান জয়নিউজকে বলেন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বোরহান, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল তালুকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোনাফ ও পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি কাজী রাসেলের নেতৃত্বে ৩০-৪০জন সন্ত্রাসী এই হামলায় অংশ নিয়েছে।

মোস্তাক খান আরও দাবি করেন, এ হামলায় উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম ইকবাল, পূর্ব গোমদণ্ডী ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিস, যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম মনু, ছাত্রদল নেতা সিদ্দিক আজাদ রিয়াদসহ প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এসময় তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, আবু সুফিয়ান আজ যে এলাকায় গণসংযোগ করেছেন সেটা মোরশেদ খানের প্রভাবিত এলাকা। মোরশেদ খানের অনুসারীদের সঙ্গে তাদের ঝামেলা হয়েছে। আমরা হামলা করিনি। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে আমাদের একটা নির্বাচনি ক্যাম্প উদ্বোধন ছিল। আমরা তাতে ব্যস্ত ছিলাম।

কোন্দলের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে আবু সুফিয়ান জয়নিউজকে বলেন, আমাদের মাঝে কোনো কোন্দল নেই। কোন্দলে বিপর্যস্ত ওরা। বৃহস্পতিবারও তাদের রক্তারক্তি হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা যখন সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করেছে তখন তারা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঘরে ঘরে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করতে আসলে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থকরা তাদের ঘিরে ফেলে এবং অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রচারণা না চালিয়ে এলাকা ত্যাগ করার জন্য বলেন। এসময় ধানের শীষের কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে চড় থাপ্পরও মারেন। পরবর্তীতে তারা প্রচারণা না চালিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পৌর প্যানেল মেয়র এসএম মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনি সুন্দর পরিবেশকে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে বিএনপি গুজব সৃষ্টি করছে। জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে এই ধরণের আজগুবি কল্পকাহিনী প্রচার করছে।

বিএনপির প্রার্থীসহ কর্মী-সমর্থকদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবরে পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) একরামুল ছিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন জয়নিউজকে বলেন, বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বোয়ালখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, এই ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি দুটি এলাকায় দুই প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিয়মিতটহল জোরদার রয়েছে।

জয়নিউজ/শাহীনুর/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...