নগর ছাত্রলীগ: একতরফা তিন থানা কমিটি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

0

ফের বিভক্তি দেখা দিয়েছে নগর ছাত্রলীগে। নগরের তিনটি থানায় একপেশে কমিটি দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনটি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বিভেদ নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির ডাক দিয়েছে, ঠিক সেই সময় এধরণের কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগকে বিব্রত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে নগরের বন্দর, পতেঙ্গা, আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে মেয়াদোত্তীর্ণ নগর কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর।

অভিযোগ রয়েছে, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং নগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা না করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে নগরের একটি অংশকে বাদ দিয়ে শুধু শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অংশকে প্রাধান্য দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। ফলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে। এরফলে ছাত্রলীগের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে অনেকে।

২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের ২৪ জনের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সংসদ। এর প্রায় একবছর পর ২০১৪ সালে ২৯১ জনের সম্মেলনবিহীন কমিটি পেয়েছিল নগর ছাত্রলীগ।

মেয়াদ শেষ করে সেই কমিটি সাত বছর পার করলেও নগরের কোনো ওয়ার্ড-থানা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। উপরন্তু আধিপত্য বিস্তারের খেলায় মেতে জড়িয়েছে একের অধিক ভ্রাতৃঘাতী ‘যুদ্ধে’।

এ কমিটি বাতিলের দাবিতে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন আন্দোলন করে রাজপথ উত্তপ্ত রাখে। পরে পদবঞ্চিতদের আন্দোলন পরিণত হয় ক্ষোভে। নগরের সার্কিট হাউজে দুই গ্রুপে সংঘর্ষও হয়।

কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলেও মহিউদ্দিন ও নাছির অনুসারীদের মাঝে বিভাজন থাকায় ছাত্রলীগের রাজনীতি দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এরইমধ্যে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। গত বছর মেয়র নাছিরের অনুসারীদের বাদ দিয়ে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেন ইমু-দস্তগীর। তখন সেখানে পাল্টা কমিটি গঠন করেন নাছির অনুসারীরা। এরপর নগর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্তির দাবি তোলেন নাছিরপন্থিরা।

জানা গেছে, বর্তমান নগর কমিটির ৫৬ জন সদস্যই বিবাহিত। দেড়শরও বেশি নেতার বয়স সংগঠনের নিয়মসিদ্ধ নয়। ছাত্রনেতাদের অনেকেই ব্যবসায়ী। বেশ কয়েকজন নেতা পড়ালেখা ছেড়েছেন অনেকদিন আগে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বরাবর বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে এমন অনেক অভিযোগ দিয়েছেন নগর ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।এবিষয়ে জানতে চাইলে নগর কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপসম্পাদক নাছির উদ্দিন কুতুবী জয়নিউজকে বলেন, আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে নগর ছাত্রলীগের কার্যক্রম গতিহীন হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনা ছিল যে, মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিটগুলোতে কোনো ওয়ার্ড বা শাখা কমিটি দেওয়া যাবে না। এরপরও কাউকে না জানিয়ে একপেশি কমিটি দিয়ে তারা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে চায়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত জয়নিউজকে বলেন, এতদিন ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু একতরফা কমিটির মাধ্যমে ছাত্রলীগের ঐক্যকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এখন নগর কমিটির উচিত হবে স্বসম্মানে সম্মেলন দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা।

এব্যাপারে জানতে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

জয়নিউজ/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...