কাঁদছে হালদা

0

রাউজানে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে জেগে উঠা চরের মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে ইট। নিষোধাজ্ঞা অমান্য করে জাল ও বড়শি দিয়ে চলছে নদীতে মাছ শিকার। শ্রমিকদের মলমূত্র ত্যাগ আর যান্ত্রিক নৌযান চলাচলে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে হালদা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হালদা নদীর রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নে একাধিক ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে উরকিরচর মইশকরম  এলাকার আজমীর অটো ব্রীকস ইন্ডাস্ট্রিজ, পশ্চিম আবুরখীল এলাকায় শান্তি ব্রীকস নামে ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটায় ইট তৈরির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে হালদা নদীতে জেগে উঠা চরের মাটি । প্রতিদিন চর থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে ইটের ভাটাগুলোতে এনে স্তূপ করে রাখা হয়। পরে এ মাটি দিয়ে তৈরি করা হয় ইট।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাল ও বড়শি দিয়ে চলছে অবাধে নদী থেকে মাছ শিকার। হালদা নদীতে বড় বড় ড্রেজার ও যান্ত্রিক নৌযান চলাচলের ফলে নষ্ট হচ্ছে মাছের প্রজনন ক্ষেত্রের ভারসাম্য। আবার এসব যান্ত্রিক নৌযানের আঘাতে হালদা নদীতে গত এক বছরে ২০টি ডলফিনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ মারা গেছে।

এছাড়া হালদা নদীর তীরে গড়ে উঠা ইটভাটায়  ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করার জন্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পাবর্ত্য জেলার বন থেকে আনা কাঠ। এসব কাঠও হালদা নদী দিয়ে বড় বড় নৌকায় করে আনা হচ্ছে ইটভাটায়। ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহারের জন্য কয়লা যান্ত্রিক নৌযানে করে হালদা নদী দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে ।

চরের মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে ইট

ইটের ভাটার শ্রমিকদের ব্যবহারের জন্য হালদার তীরে নির্মাণ করা হয়েছে শৌচাগার। এতে দূষিত হচ্ছে হালদা নদীর পানি।

তবে আজমীর অটো ব্রীকসের ম্যানেজার আনোয়ার মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জয়নিউজকে বলেন, হালদা নদীর চর থেকে ইট তৈরির জন্য কোনো মাটি কাটা হয় না। কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে চর কেটে হালদা নদী দিয়ে ইটভাটায় আনা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে হালদা থেকে চলছে অবাধে মাছ শিকার।

এ ব্যাপারে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জয়নিউজকে বলেন, হালদার মা মাছের প্রজননের জন্য হুমকি এসব ইটভাটায় শিগগির অভিযান চালানো হবে।

তিনি আরও বলেন, হালদা নদীতে মাছ শিকার করার সময় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

জয়নিউজ/পিডি

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...