‘জয় বাংলা’ স্লোগানে নেমে আসি রাজপথে: মেয়র নাছির

0

বাঙালি জাতির শোকের দিন ১৫ আগস্ট আজ। একদল বিপথগামী সেনাসদস্য ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। জয়নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা কলঙ্কিত সেই দিনটিকে নিয়ে বলেছেন অনেককিছুই। আমাদের বিশেষ আয়োজনের শুরুতেই শোনা যাক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের স্মৃতিচারণ…

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর…

বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতাকে হত্যা করা হবে সেটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এ খবর শুনে সবার মতো আমিও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম। অবশ্য বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা তখন আনন্দ করছিল। এরপর আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। কারো কারো বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। চট্টগ্রামের প্রথমসারির নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এমন একটি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে যারা বঙ্গবন্ধুর আশেপাশে থাকত। তারা জানতেন কে কে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্টজন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর তারা কে কী করছে। তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়।

প্রতিবাদে মিছিল নিয়ে রাজপথে…

আমরা যারা তৃণমূলের নেতা-কর্মী ছিলাম তারা অনেক পরে হত্যার কারণ ও পরিকল্পনার কথা জানতে পারি। তখন আমি চট্টগ্রাম কলেজের ডিগ্রির ছাত্র। আমরা বেশ কয়েকজন মিলে ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে মিছিল করেছি। হয়তো বড় পরিসরে করতে পারিনি। তবে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আমরা সেদিন তরুণ সমাজকে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলাম। আমার নেতৃত্বে ৪-৫ জন শিক্ষার্থী মিছিলে অংশগ্রহণ করে। মিছিলটি চন্দনপুরার দিকে যাচ্ছিল। ওই মিছিলের খবর সেনাসদস্যরা জেনে গিয়েছিলেন। সেনাসদস্যরা রাজপথে অবস্থান নিলে মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায়। পরে সেনাসদস্যরা খোঁজখবর নিয়েছিলেন কারা মিছিল করেছে। তারা আমাদের নামের একটি তালিকা সংগ্রহ করেছিল। এরপর থেকে আমরা প্রকাশ্যে মিছিল করতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে তরুণদের সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা করেছি।

৭৫’ পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা…

১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। তাদেরকে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নয়, স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। জিয়া সরকার এদেশের সামরিক শাসন কায়েম করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন তাদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হতো। সেসময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনের রীতিমতো স্টিমরোলার চালানো হয়। ফলে দলীয় নেতা-কর্মীদের এক জায়গায় করা দুরুহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবুও আমাদের রাজনীতি থেমে থাকেনি। আস্তে আস্তে নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করেছি।

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর…

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরলেন তখন আওয়ামী লীগ ফের চাঙ্গা হতে থাকে। দলের দুঃসময়ে অনেকে মাঠে ছিলেন না। কিন্তু সুসময়ে অনেকেই এসে হাজির হয়। শেখ হাসিনা সবাইকেই দলে টেনে নিয়েছেন। কারণ আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। হয়তো সামরিক জান্তার কারণে অনেকে প্রকাশ্যে রাজনীতি করেননি। কিন্তু অন্তরালে থেকে আওয়ামী পরিবারকে সাহস দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি…

বঙ্গবন্ধু নিজের জন্য রাজনীতি করেননি। তিনি আজীবন এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছেন। দেশের স্বার্থে তিনি অবিভক্ত পাকিস্তানের মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ছাত্ররাজনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী রাজনীতিতে আসি। এখনো জাতির পিতার কথা মনে পড়লে মন কাঁদে। যে মানুষটি কোনোদিন নিজের সুখের কথা চিন্তা করেননি, আমরা তাঁর জন্য কী করেছি?

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে…

আমি মনে করি, রাজনীতি ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার নয়। জনগণের কল্যাণ সাধন করাই রাজনীতি। রাজনীতি করতে হলে আদর্শকে বুকে ধারণ করতে হবে। আমরা যেহেতু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করার অঙ্গীকার করেছি, সেহেতু বঙ্গবন্ধু কীভাবে রাজনীতি করেছেন তা অনুসরণ করতে হবে। কারণ বঙ্গবন্ধু মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন, মাটির জন্য রাজনীতি করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। নতুন প্রজন্ম যদি সত্যিকার অর্থে রাজনীতিতে আসতে চায় তবে বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতিতে আসতে হবে।

জয়নিউজ/এমজেএইচ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...