বন্দরে বে-টার্মিনাল নির্মাণে কাজ শুরু

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বে-টার্মিনাল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। নগরের পতেঙ্গা-হালিশহর এলাকায় সাগর উপকূলঘেঁষে ২১ হাজার কোটি টাকায় ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এতে প্রতিবছর দেড় কোটি কনটেইনার ও প্রায় ৫০ কোটি টন খোলাপণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা আসবে বন্দরের। প্রথম গ্রিন পোর্ট হিসেবে বে-টার্মিনালটি নির্মাণ হলে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরে বাংলাদেশে নতুন বন্দরের প্রয়োজন হবে না, এমনটিই মনে করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

বন্দর প্রকৌশল বিভাগের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে ফেস-১ প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হয়েছে বে-টার্মিনালের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ। ২ কিলোমিটার রিভেটমেন্ট (সীমানা প্রাচীরের নীচের অংশ, যার উপর স্থাপিত হবে সীমানা প্রাচীর) নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে শোর প্রটাকশন। উভয় কাজের ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফেস-২ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী সপ্তাহে শুরু হবে বে- টার্মিনালের ট্রাক টার্মিনাল, ডেলিভারি ইয়ার্ডসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের কাজ।

- Advertisement -
google news follower

প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, বিশ্বের উন্নত বন্দরের গ্রিন পোর্টের ন্যায় বে-টার্মিনালের কর্মযজ্ঞ শুরু হলে পরিবেশ দূষণ যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে জেটিতে ভেড়ানো জাহাজে তীর থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। এতে করে জাহাজটি জেটিতে যতদিন অবস্থান করবে, ততদিন নিজস্ব জেনারেটর না চালিয়ে জাহাজ সচল রাখতে পারবে। ফলে জাহাজের চিমনি দিয়ে যেমন ধোঁয়া বের হবে না, তেমনিভাবে পোড়া তেলও বের হবে না। ফলে দূষণমুক্ত থাকবে পানি ও বাতাস ।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের একাধিক দেশ বে-টার্মিনাল নির্মাণ ও তার অপারেশনাল কাজ পেতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। এরমধ্যে এগিয়ে আছে সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে ভারত এই প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করলেও, অপারেশনাল কাজে তারা আগ্রহী নয়। অন্য ৪টি দেশ বে-টার্মিনাল বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছে।

- Advertisement -
islamibank

সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি পিএসএ টার্মিনাল নির্মাণের সঙ্গে অপারেশনেও আগ্রহ দেখাচ্ছে। জানা যায়, বে-টার্মিনালের অপারেটিং এবং মালিকানা যদি বন্দর নিজের হাতে রাখে, তবেই পিএস যৌথভাবে অপরেশনাল কাজ করবে। অন্যদিকে কোরিয়া সরকার চাইছে বে-টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশকে আর্থিক সহযোগিতা করতে।

কোরিয়ান সরকারের মিনিস্ট্রি অব ফিশারিজ ও ওশানোগ্রাফির অধীন প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল পোর্ট ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন পূর্ণাঙ্গ টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি আনুষঙ্গিক কাজ ছাড়াও ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ বার্ষিক ০.০১ শতাংশ সুদে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে, যা ৪০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। সরকারের কাছে কোরিয়ার প্রস্তাবটিই আপাতত সবচেয়ে ভালো মনে হচ্ছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ সরকারও চাচ্ছে জি টু জি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতিতে বে-টার্মিনালের কাজ সম্পন্ন করতে।

২৩০০ একর ভূমির ওপর বে-টার্মিনাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। বর্তমানে একটি জাহাজকে জেটিতে প্রবেশ করতে হলে দিনের আলোতে মাত্র ৪ ঘন্টার মধ্যেই ২টি বিপদজনক বাঁক অতিক্রম করে ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। বে-টার্মিনাল বাস্তবায়ন হলে কোনো বাঁক ছাড়াই শুন্য কিলোমিটারের মধ্যে জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে।

৯ মিটার ড্রাফটের ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যর অতিরিক্ত কোনো জাহাজ বর্তমানে জেটিতে ভিড়তে না পারলেও, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ১২ মিটার গভীরতা ও ২৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ অনায়াসে বে-টার্মিনালে বার্থিং করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ কিলোমিটার জেটিতে ১৬টি জাহাজ বার্থিংয়ের সুবিধা থাকলেও, বে-টার্মিনালের ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটারের টার্মিনালে অনায়াসে একসঙ্গে বার্থিং করতে পারবে ৫০টি জাহাজ। বর্তমানের তুলনায় আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে পাঁচগুণ বেশি সুযোগ থাকবে বে-টার্মিনালে।

জয়নিউজ/আরসি

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ