তারা চাটগাঁর মানুষ, ঝড়-তুফানে ‘ডরান’ না!

0

নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে শুক্রবার বিকেলে পতেঙ্গা সৈকতে বেড়াতে এসেছিলেন গৃহবধূ উম্মে সালমা। ঘূর্ণিঝড় ফণীর শংকার মধ্যেই সৈকতে কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জয়নিউজকে বলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা চট্টগ্রামের মানুষ ঝড়-তুফানে ‘ডরাই’ না। আল্লাহ ভরসা।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে চট্টগ্রামে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এই বিপদ সংকেতের মধ্যেই শুক্রবার (৩ মে) বিকেলে নগরের পতেঙ্গা সৈকত ও নেভালে দর্শনার্থীদের ঢল নামে।

তবে সন্ধ্যার দিকে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলে দর্শনার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেন সৈকতে নিয়োজিত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে শুক্রবার মধ্যরাতে। এসময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

কিন্তু বন্দরনগরীর সাগরপ্রেমী মানুষকে তা বোঝাবে কে? শুক্রবার বিকেলে পতেঙ্গা সৈকতে গিয়ে তাই দেখা গেল মানুষের ঢল। কেউ বন্ধু-বান্ধব কেউবা স্বপরিবারে সৈকতে বেড়াতে এসেছেন ঘূর্ণিঝড়ের শংকা উপেক্ষা করে।

স্বপরিবারে বেড়াতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা জিয়া হাসান জয়নিউজকে বলেন, বাচ্চাদের কথা দিয়েছিলাম শুক্রবার পতেঙ্গা সীবিচে নিয়ে আসব। ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত থাকা সত্ত্বেও বাচ্চাদের অনুরোধে আসতে হয়েছে। তবে যতদূর শুনেছি ফণী চট্টগ্রামে আঘাত হানবে না। আর অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ সৈকতে বাতাসও অনেক বেশি। ভালোই লাগছে।

পতেঙ্গা সৈকতের পাশাপাশি নেভাল সড়কেও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। প্রবল বাতাসের মধ্যেই অনেককে সড়কের পাশে বসে পেঁয়াজু-কাঁকড়া খেতে দেখা গেছে।

এদিকে সন্ধ্যার দিকে বাতাসের বেগ বাড়তে শুরু করলে সৈকতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা দর্শনার্থীদের সরিয়ে দিতে শুরু করেন। সমুদ্রে গোসল করতে নামা অনেক যুবককে পানি থেকে উঠিয়ে তীরে নিয়ে আসেন তারা। সবাইকে সৈকত থেকে চলে যেতে অনুরোধ করেন তারা। এসময় সৈকতে মাইকিং শুরু করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

জানতে চাইলে পতেঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এছাড়া চট্টগ্রামের মানুষ অনেক সাহসী। তাই সংকেত থাকার পরেও সৈকত ও নেভালে ঘুরতে এসেছেন অনেক দর্শনার্থী। তবে সৈকতে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্বেচ্ছাসেবক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত আছেন। তেমন কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...