গরীব মানুষের আবার মে দিবস!

বৈশাখের তপ্ত দুপুর। কাজে ঘেমে-নেয়ে একাকার নগরের জামালখান এলাকার নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকেরা।

- Advertisement -

সেখানে ইট ভাঙ্গার কাজ করেছেন আসিয়া বেগম। ডিসি রোড থেকে প্রতিদিন এখানে আসে কাজ করতে। তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। জীবনযুদ্ধে তাই তাকে একাই লড়তে হচ্ছে।

- Advertisement -google news follower

সারা বিশ্ব যখন একযোগে কর্মবিরতি পালন করে মে দিবস পালন করছে, তখন আসিয়া বেগম সকাল থেকে ইট ভাঙ্গার কাজ করে যাচ্ছেন। সূর্য না ডুবলে সে বাসায়ও ফিরতে পারবে না।

আসিয়াকে যখন মে দিবসের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন, এই দিবস তাদের মতো দিনমজুরের জন্য না। বরং একদিন কাজ না করলে সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে।

- Advertisement -islamibank

এ কাজের মজুরি দিয়েই চলে তাদের সংসার। ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয়ে যাওয়া কাজ বিরতিহীনভাবে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

ভর দুপুরে নন্দনকানন এলাকায় রাস্তা মেরামতের কাজ করছিলেন আজাত আলী। কথা হয় তার সাথে। সেখানকার তিনি বলেন, মে দিবস কাজ না করলে কেউ কী টাকা দেবে? পেটে ভাত যাবে কীভাবে?

তিনি জানান, যে টাকা মুজুরি পাই তা দিয়ে সংসারের খরচ জোড়াতালি দিয়ে চলে। কষ্ট হয় তারপরেও কাজ করি। আর সরকারি ছুটি থাকায় পুরো দিন কাজের সুযোগ পেয়েছি। পরে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে তিনি বলেন, গরিব মানুষের আবার মে দিবস!

কাজির দেউড়ি বাজারে কথা হয় রঞ্জন দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, অনেক বছর ধরে এপেশায় আছি। সংসার চালার জন্য তো প্রতিদিন বাজারে এসে মাছ বিক্রি করতে হয়। বৌ ছেলে মেয়েদের তো খাওয়াতে হবে।

মে দিবসের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন ই তো দিবস থাকে। কিন্তু দিবস পালন করতে গেলে তো না খাইয়ে থাকতে হবে। ঘরে ছোট ছেলে তার মুখে তো দুধের তৃপ্তিটুকু দেওয়ার জন্য হলেও কাজে আসতে হয়।

তাদের অনেকেই মে দিবসের তাৎপর্য জানেন না। শুধু জানেন, তাদের ন্যায্য মজুরির দাবি এখনো উপেক্ষিত, এখনো তাদের বিরাট অংশ মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত।

প্রসঙ্গত, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন আজ। সারা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পালন করা হয় এ মে দিবস।

১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকেরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ওই দিন অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে জীবন দিতে হয়। এরপর থেকে দিনটি ‘মে দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এ দিনটিকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সরকারি ছুটি থাকে এ দিন।

বাংলাদেশেও আজ সরকারি ছুটি। এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

জেএন/হিমেল/পিআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@joynewsbd.com ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ

×KSRM