বিরতিহীন চয়েস পরিবহন কতটা বিরতিহীন!

ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ, নতুন যাত্রীবাহী বাস চালু করার দাবি

0

নামে বিরতিহীন, চলে নিজেদের ইচ্ছেমত। মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম, ভাড়া ১৩০ টাকা। তার মধ্যে রয়েছে যাত্রী উঠা-নামা। তাও নির্দিষ্ট কোন স্টপেজ নেই, হাত তুললেই ব্রাক; বলছিলাম মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম যাত্রীবাহী বিরতিহীন চয়েস পরিবহনের কথা। যদিও সকালে এ পরিবহনে যাত্রা করেন চাকরিজীবীরা। হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বিরতিহীন ‘চয়েস পরিবহনে’ চড়লেও নির্দিষ্ট সময়ে ( অফিসিয়্যাল টাইম) গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে বাস চালক, সহকারীদের অনুরোধ করলেও তাদের টনক নড়ে না। যাত্রায় এমন ভোগান্তির তিক্ততার ঝড় উঠেছে এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

মিরসরাই উপজেলা থেকে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার যাত্রীবাহী বাস ‘চয়েস’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানান তিক্ত অভিজ্ঞতা আর ক্ষোভ নিয়ে ফেসবুক জুড়ে পোস্ট করছেন ভুক্তভোগীরা। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে!

অভিযোগ আছে, চয়েস বারইয়ারহাট পৌর বাজার থেকে চট্টগ্রাম শহরের মাদারবাড়ী এলাকা পর্যন্ত যায়। এরমাঝে যেখান থেকেই যাত্রী উঠুক বিরতিহীন বলে ১৩০ টাকা ভাড়া নেয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী বারইয়ারহাট থেকে ছেড়ে বড়দারোগারহাট পর্যন্ত ৩৫ মি. এ শুধু বাসস্ট্যান্ড গুলো থেকে যাত্রী নেয়ার কথা থাকলেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমত সময় নিয়ে যেখান সেখান থেকে যাত্রী উঠানো হয়। অনেক সময় গাড়ির ভেতর যাত্রী উঠানামা, চট্টগ্রাম শহরে দেরিতে পৌঁছানো আর ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে হাতাহাতির মত ঘটনাও ঘটে। শুধু অভিযোগ নয় অনেকের দাবি যেন মিরসরাইবাসীর জন্য চয়েস এর বিকল্প নতুন কোন যাত্রী বহনকারী গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়।

এ নিয়ে উপজেলার এক সমাজকর্মী এক পোস্টের কমেন্টে লিখেন, “আজকের অভিজ্ঞতা বলি- বড়তাকিয়া এসে ইচ্ছেমত যাত্রী নিলো।আমি উঠে নেমে যেতে চাইলাম, তারা বললো- এই তো দারোগারহাটে সিট খালি হয়ে যাবে, নামবেন না। দারোগারহাটে ৫/৬ জন নামলেন। কে যেন টাকা না দিয়ে নেমে গেছে। হেলপার দশ মিনিট ধরে তাকে খুজলেন, পেলেন না। এরপর গাড়ি থামলো একজনের প্রস্রাবের জন্য, সমস্যা নাই। সীতাকুন্ডে যাত্রী উঠা নামা হলো। তারপর চেকারের জন্য বিরতি। চাকুরিজীবিগন বিরক্তি প্রকাশ করলেন। এবার দিল টান। সিরিয়াসনেস বুঝা গেলো তাদের। আরে নাহ! যা বুঝলাম তা নয়! তারপর হক্কানি ফিলিং স্টেশনে তেল নেয়ার জন্য আবার বিরতি। এই হলো চয়েস।মীরসরাইবাসির দুঃখ।”

মোহাম্মদ ফয়সাল ভূঁইয়া কমেন্টে লিখেন, “নেতারা বড় বড় কথা বলে। নিজে চলে এসি আর ব্যক্তিগত গাড়িতে, সাধারণ জনগণের কথা কেউ বলে না। চয়েস বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”

পলাশ মিয়া স্বাধীন লিখেন, বারিয়ারহাট থেকে চট্টগ্রাম ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট এর নাম চয়েস গাড়ি উত্তরার চেয়েও খারাপ-গাড়ি মনে হয়, তারা হেন্ডেল মেরে মেরে চালাই এতো স্লো ভাবে চালাই যে, ১৩০ টাকা দিয়ে চয়েসে না গিয়ে, শ্যামলী হানিফ তিশা গ্রাম বাংলা ১০০টাকা প্যারা নাই চিল।

চয়েস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছারকে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আমি রিসেন্টলি মোবাইলে কোন কথা বলতে পারতেছি না, আপনি যাই বলবেন সরাসরি এসে কথা বলবেন। আমার অফিসে আসেন।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন জানান, যাত্রীবাহী চয়েস বাসের বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না, কেউ যদি অভিযোগ দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব।

জেএন/জাবেদ/এমআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...