চট্টগ্রামের খালি কন্টেইনারে মালয়েশিয়ায় যাওয়া রাতুল বাকপ্রতিবন্ধী

0

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ কুমিল্লার বাকপ্রতিবন্ধী কিশোর মো. রাতুল ইসলাম সাঈদের (১৪) সন্ধান মিলেছে মালয়েশিয়ায়। গত ১৭ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দরে খালি কন্টেইনার থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরই নিখোঁজ সাঈদ বলে নিশ্চিত করেছেন স্বজনরা।

উদ্ধার হওয়া কিশোরের বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. ফারুক মিয়া। দরিদ্র ফারুক মিয়া দিনমজুরের কাজ করেন।

স্বজনদের বরাত দিয়ে শনিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান হাওলাদার।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১২ জানুয়ারি ছেড়ে যাওয়া ‘এমভি ইন্টেগ্রা’ জাহাজের একটি খালি কনটেইনারে আটকা পড়ে রাতুল।

১৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দরে জাহাজের একটি খালি কনটেইনারের ভেতর থেকে শব্দ শুনতে পান নাবিকরা। এরপরই কেলাং বন্দরকে জানানো হয়। পরদিন বুধবার (১৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় জাহাজটির কনটেইনার থেকে প্রতিবন্ধী এই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনমজুর ফারুকের ৩ ছেলে। রাতুল সবার বড়। অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে কোনোভাবে পরিবার নিয়ে চলেন ফারুক। রাতুল নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পারেননি ফারুক। নিখোঁজ রাতুল কিভাবে কন্টেইনারে করে মালয়েশিয়া পৌঁছেছে তা জানেন না তার পরিবারের কেউই।

রাতুলের বাবা ফারুক মিয়া জানান, ২ মাস ৭ দিন আগে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। অসুস্থ সন্তানকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। রাতুলের খোঁজ পেতে আত্মীয় স্বজনদের বাসায় খবর নেওয়া হয়। কিন্তু খোঁজ মেলেনি রাতুলের।

রাতুলের মা রোকেয়া বেগম বলেন, আমি আমার সন্তানের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন সন্ধান মিলেছে, যেইভাবে পারেন আমার ছেলেকে ফিরিয়ে এনে দেন। আমি সরকারের কাছে আবেদন করছি, যেন আমার ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

সাঈদের চাচা আজগর আলী বলেন, ‘সে জন্ম থেকেই কথা বলতে পারেন না। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়াতে আমরা অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। পরে সামান্য কথা বলতে পারতো। দুই মাস সাত দিন আগে ভাতিজা নিখোঁজ হয়। ফেসবুকে তাকে দেখে চিনতে পেরেছি। আমরা আমার ভাতিজা ফেরত চাই। সরকারের কাছে অনুরোধ ছেলেটাকে যেন ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘ছেলেটার ছবি দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। আমার এলাকার ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে দেখবো কীভাবে তাকে ফেরত আনা যায়। তার পরিবার খুবই দরিদ্র’। শনিবার বিকেলে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম কমল বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে আপনাদের জানানো হবে’।

জেএন/এফও/এমআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...