বিলুপ্তির পথে পটিয়ার মুখোরোচক খেজুর রস

0

সনজয় সেন.পটিয়া প্রতিনিধি: পৌষের শীতেই কাঁপছে সারাদেশ। শীতের সকালে খেজুর রস খাওয়ার স্বাদই অন্যরকম। কিন্তু চট্টগ্রামের পটিয়ায় শীতের সকালে দেখা মিলছেনা খেজুরের রস।

এমনকি রস বিক্রেতাদের বাড়ি গিয়েও রস পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে। প্রতি লিটার রস বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। তাও আগে থেকে অগ্রিম পরিশোধ না করলে পাওয়া যায় না।

আগে গাছিরা রস নিজেরাই বাড়ি বয়ে এনে দিয়ে যেতো। আর এখন তাদের বাড়ি গিয়েও ঝি-জামাইদের পায়েশ খাওয়ানোর মত রস পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে।

ফলে শীতে রসের পিঠা আর আয়েশ করে পায়েশ খাওয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। উপজেলায় যে সকল গাছি এ পেশায় জড়িত থেকে সংসার চালাতেন, গাছ না থাকার কারণে তারা এখন বেঁছে নিচ্ছেন অন্য পেশা।

উপজেলার পাহাড়ি এলাকা খরণা, কচুয়াই, হাইদগাঁও, কেলিশহর এলাকায় সামান্য কিছু গাছের দেখা মিললেও উপজেলার কোথায়ও এখন খেজুর গাছ দেখা যায়না।

কেউ এখন খেজুর গাছ রোপনও করেন না। বলা চলে এক প্রকার পুরো উপজেলা জুড়ে বিলুপ্তির পথে পটিয়ার সেই মুখরোচক রস। তবে পাহাড়ি বন এলাকায যে কয়টি গাছ এখনো রয়েছে তা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।

উপজেলায় আজ থেকে ১০/১৫ বছর আগেও যেসব এলাকায় খেজুর গাছ দেখা গেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে সেসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এক শ্রেণীর অসাধু ইট ভাটা মালিক খেজুর গাছ কেটে ইট ভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করায় এখন আর খেজুর গাছ নেই। ফলে মৌসুমী সুস্বাদু খেজুরের রস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, অতীতে এখানকার খেজুর রসের যে যশ ছিল যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। খেজুরের রস শীতের সকালে গ্লাস ভরে খেতে বেশ মজা। বেশ লোভনীয় রসের তৈরী গুড় ও পাটালী।

আর শীত এলেই পটিয়ার গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি ঘরে খেজুরের রস দিয়ে পিঠা-পুলি, পায়েস তৈরির ধুম পড়ে যেতো। মুড়ি, চিড়া, পিঠা খাওয়া কৃষক পরিবার থেকে শুরু করে সবার কাছেই প্রিয় ছিল।

উপজেলার খরনা গ্রামের গাছি আবুল হোসেন জানান, ইট ভাটায় খেজুর গাছের চাহিদা বেশি হওয়ায় গ্রামের লোকজন দেদারছে গাছ বিক্রি করে দিয়েছে। তাই আগের মতো খেজুর গাছ দেখা যায় না। তবুও যে কয়টা গাছ দাঁড়িয়ে আছে তা থেকেই চলছে রস সংগ্রহ। তিনি জানান অনেকেই এ পেশা ছেড়ে বেঁছে নিচ্ছেন অন্য পেশা।

হাইদগাঁও গ্রামের গুড় ব্যবসায়ী আবদুস শুক্কুর (৫২) জানান, এক সময় শীত মৌসুমে খেজুরের রস দিয়ে গুড় তৈরী করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আমরা সংসার চালাতাম। এখন গাছ কমে যাওয়ায় যে রস পাই তা দিয়ে পরিবারের চাহিদাও মেটানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই অনেকেই এ পেশা ছাড়ছেন।

পটিয়া বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার নুর আলম হাফিজ জানান, সরকারি বনে কিছু খেজুর চারা লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। লাভজনক নয় বলে ব্যক্তি মালিকাধীন জায়গায় কেউ এখন খেজুর গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়না।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল মামুন জানিয়েছেন, গ্রামীণ রাস্তায় খেজুর ও তাল চারা লাগাতে জনপ্রতিনিধিদের উদ্ধুদ্ধ করা হচ্ছে। সুফল পেতে সময় লাগবে। তবে পরিবেশ বান্ধব এসব বৃক্ষ আমাদের লাগানো ও পরিচর্যা করা সামাজিক দায়িত্ব।

জেএন/সঞ্জয়/পিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...