কক্সবাজারের ইনানিতে প্রধানমন্ত্রী: বিকেলে জনসভায় ভাষণ দেবেন

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আজ বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সাগর পাড়ের শহর কক্সবাজার গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

- Advertisement -

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী উখিয়া উপজেলার সমুদ্র তীরবর্তী ইনানীতে বাংলাদেশসহ ২৮টি দেশের নৌবাহিনী ও উপকূলীয় সংগঠনগুলোর ৪ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ ফ্লিট রিভিউ উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেবেন।

- Advertisement -google news follower

এ আয়োজনে যোগ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতসহ ২৮ দেশের নৌবাহিনীর সদস্যরা। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো থেকে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া চৌকস নৌ-সেনারা প্যারেডের মাধ্যমে সালাম জানাবেন প্রধানমন্ত্রীকে। এ আয়োজনের পাশাপাশি ইনানী সৈকতে স্থাপিত বাংলাদেশ নেভির স্থায়ী জেটিও উদ্বোধন করবেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক সামরিক ভাবমূর্তি ও সক্ষমতার নতুন বার্তা দিতে এবার বাংলাদেশ আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ-২০২২। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যুদ্ধজাহাজ নিয়ে প্রথমবার এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছে তারা।

- Advertisement -islamibank

নীল জলরাশিতে সারিসারি যুদ্ধজাহাজ আর নীল দিগন্ত থেকে প্যারাস্যুটে জাম্প করছেন নেভি সিলের চৌকস সদস্যরা। একঝাঁক স্পিডবোটের উন্মত্ত টহল; অন্যদিকে ক্ষীপ্রগতির হেলিকপ্টার থেকে একে একে নামছেন নেভি সোয়াডসের সদস্যরা। এভাবেই প্রশিক্ষণ নেন নৌসেনারা। আন্তর্জাতিক এ ইভেন্ট আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য মঙ্গলবার শেষ করা হয় এর চূড়ান্ত মহড়া।

এতে প্রতীকীভাবে ঘণ্টা বাজিয়ে রিভিউ প্রোগ্রামের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। উন্মুক্ত নোনা জলরাশির এ আয়োজনে নিজস্ব সাংস্কৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ ইভেন্টের পাশাপাশি উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে ভিনদেশি শিল্পীদের পরিবেশনাও, যা এদিন বাস্তবে উপভোগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বেলা ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার শহরের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন।

সরকারপ্রধানের আগমন ঘিরে শহরজুড়ে এখন সাজ সাজ রব। সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসভা করে চমক দেখাতে চায় জেলা আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ উপলক্ষে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হচ্ছে গোটা এলাকা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সড়ক মেরামত থেকে শুরু করে সৌন্দর্য্য বর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়েছে শহরজুড়ে। রাঙিয়ে তোলা হয়েছে সড়ক বিভাজক ও আশেপাশের এলাকা।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ড-পোস্টারে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক-উপসড়ক। ভাঙাচোরা সড়কের সংস্কার এবং সড়কে লাইটিং করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর দলীয় সভাপতির আগমনে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। নেতারা বলছেন, না চাইতেই প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে অনেক উন্নয়ন করেছেন। মানুষ শেখ হাসিনাকে দেখতে উদগ্রীব হয়ে আছে।

তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের ৬ মে সর্বশেষ কক্সবাজারে এসে কক্সবাজারকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঘোষণার আলোকে কক্সবাজারে চলছে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ৪০টি মেগা প্রকল্পসহ ৭৭ উন্নয়ন প্রকল্প।

যার সুফল পাচ্ছেন কক্সবাজারসহ দেশবাসী। এর মধ্যে এবার নতুন করে কক্সবাজারবাসীর পক্ষে আরও ১১টি দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৭ ডিসেম্বর (বুধবার) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন।

এবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভাটি কক্সবাজারবাসী কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে নিয়েছে। এখানে ৫ লাখ লোকের সমাবেশ হবে। কেবল স্টেডিয়াম নয় পুরো কক্সবাজার শহর জনসমুদ্রে পরিণত হবে। এর জন্য সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, সকাল থেকে জনসভাস্থলে স্থানীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। তুলে ধরা হবে আদিবাসী সংস্কৃতি।

সমাবেশের কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উখিয়ার ইনানীতে সাগরের পাড়ে আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া উদ্বোধন করবেন। এরপর কক্সবাজার সদরে শহীদ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো কক্সবাজারকেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেএন/পিআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@joynewsbd.com ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ

×KSRM