কেন্দ্রীয় নেতারাও এখন চট্টগ্রামে,খন্ড খন্ড মিছিল যাচ্ছে পলোগ্রাউন্ডে

0

দীর্ঘ ১০ বছর ৯ মাস পর চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ চট্টগ্রাম আসছেন।

জনসভা এবং দেশনেত্রী শেখ হাসিনার আগমন ঘিরে চট্টগ্রাম জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। কয়েকদিন আগে থেকেই চট্টগ্রামে অবস্থান করে স্থানীয় শীর্ষ নের্তৃবৃন্দরা সমাবেশ সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। রাজধানী ছেড়ে জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারওে অবস্থান করছেন চট্টগ্রামে।

জনসভাকে ঘিরে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রচার চলছে। নগরের অলিগলি রাজপথ ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার ও তোরণে।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যেসব সড়ক ব্যবহার করে জনসভায় যাওয়া-আসা করবেন, সেসব সড়কে ব্যানার-পোস্টার লাগানোর জায়গা নেই। ইতোমধ্যে নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে জনসভার দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ। ৩ হাজার ৫২০ বর্গফুটের এই মঞ্চে কমবেশি ২০০ মানুষ বসতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম শহরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। নিরাপত্তা রক্ষায় র‌্যাবের পাশাপাশি থাকছেন সাড়ে সাত হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। জনসভা ঘিরেও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এসএসএফ আগে থেকে জনসভাস্থলসহ সম্ভাব্য সব স্থানের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার দায়িত্বে কেবল মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সাত হাজারের বেশি পুলিশ থাকছে।

জনসভা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ৩০০ মাইক বসানো হয়েছে। সভাস্থলের দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত জনসভার মাইকের শব্দ পাওয়া যাবে। মাঠে থাকবে ৩০ পেয়ার সাউন্ড সিস্টেম।

নগরের দেওয়ানহাট, সিআরবি, এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, কদমতলী, স্টেশন রোডসহ আশপাশের এলাকায় এই মাইকগুলো লাগানো হয়।

আজ সে কাঙ্খিক দিন। রবিবার বিকেলে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে দলীয় জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রিয় নেত্রীর দিক নির্দেশনা শুনতে এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসছেন নেতাকর্মীরা।

সকাল থেকে ঢোল বাজিয়ে, মাথায় নানা রঙের টুপি পরে দলে দলে জনসভাস্থলে আসছেন নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল ও স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে বন্দরনগরী।

নগরী ছাড়াও জেলার বাইরের ১৫টি উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা বাস-ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন পরিবহনে জনসভাস্থলের দিকে আসছেন।

আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে জড়ো হচ্ছেন। এই জনসভা থেকেই ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুপুরের আগেই তারা জনসভাস্থলে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন নেতারা। এদিকে, সমাবেশে যোগ দিতে সাগর পাড়ি দিয়ে সন্দ্বীপ থেকে প্রায় আট হাজার কর্মী এরই মধ্যে চট্টগ্রাম পৌঁছেছেন।

জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে সামরিক বাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। বেলা ৩টার দিকে সভাস্থলে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে জনসভায় যোগ দিতে দুদিন আগে থেকেই চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুল আলম হানিফ এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জনসভার প্রস্তুতি দেখভাল করছেন কয়েকদিন ধরে।

তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে ঢাকা থেকে এসেছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতা এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি টিমও চট্টগ্রাম এসেছে।

জেএন/পিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...