১২ শতাংশ বাড়ল ২৪ ওষুধের দাম

0

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি লিবরা ইনফিউশন লিমিটেডের ২৪ পদের ওষুধের মূল্য বাড়াল সরকার। গতকাল সোমবার বিকেলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক আসরাফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, লিবরা ইনফিউশন লিমিটেডের ২৪ পদের ওষুধের মূল্যে প্রকারভেদে ৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে বাড়তি দামে ক্রেতাদের এসব পণ্য কিনতে হবে। ডলার সংকট, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের ওষুধের মূল্যে বৃদ্ধির জন্য ঔষধ প্রশাসনে আবেদন করে কোম্পানিটি। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে এসব পণ্যের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৪ পদের ওষুধ লিবরা ইনফিশন লিমিটেড প্রস্তুত করে। বাংলাদেশে এই ওষুধ আর কোনো কোম্পানি উৎপাদন করে না। ফলে জনসাধারণ বাধ্য হয়ে বেশি দামে এক কোম্পানি থেকে ওষুধ কিনতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দফায় দফায় ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি প্রভাব চিকিৎসাসেবায় প্রভাব ফেলবে। দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ম্ফীতির মধ্যে এটা ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। এর আগে গত জুনে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কমিটির সভায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বহুল ব্যবহূত ২০টি ওষুধের দাম ১৩২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এ ছাড়া গত আগস্টে এসএমসির ওরস্যালাইনের দাম প্রতি পিসে ১ টাকা বাড়ানো হয়।

দেশে এখনও মানুষের চিকিৎসা বাবদ মোট খরচের বড় অংশই ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়, সেখানে ওষুধ ভেদে বড় ব্যবধানে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ওষুধের দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিকে দুষছেন ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান।

তিনি বলেন, ডলার সংকট, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ওষুধের কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছিল ৮০ টাকা ডলারে। শিপমেন্ট পৌঁছানোর পর ডলারের দাম উঠেছে ১১০ টাকায়। মোড়ক, পরিবহন, বিপণন ব্যয় বাড়ার প্রভাবও ওষুধের বাজারে দেখা যাচ্ছে। এই কারণে ওষুধের দাম বাড়ানোর আবেদন করা হয়। মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের তথ্য মতে, দেশে একজন মানুষের মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ ওষুধ বাবদ খরচ হয় এবং এই খরচ করতে হয় রোগীর পকেট থেকেই। হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওষুধেই মানুষের সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে। অন্যান্য দেশে সরকার এ ব্যয়ের একটি বড় অংশ বহন করে তবে বাংলাদেশে এখনও এটি করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, দেশে নিত্যপণ্যে সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জুনে ওষুধের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ওষুধে এই বাড়তি দাম রোগীর ওপরে চাপ আরও বাড়াবে। সরকার চাইলে অন্য কোনো উপায়ে ওষুধ কোম্পানিগুলো সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করতে পারত। তবে এ সময়ে ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, লিবরা ইনফিউশন লিমিটেড এসব ওষুধ প্রস্তুত করে। তারা ওষুধের দাম বৃদ্ধির জন্য হাইকোর্টে আবেদন করে। কোর্ট নির্দেশনা দিয়েছে তাদের আবেদনটা বিবেচনায় নিতে। কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও বেশি মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছিল। জনসাধারণের কথা চিন্তা করে ৫ থেকে ১২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ ওষুধগুলোর দাম ১৫ বছরেও বাড়েনি বলে যোগ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, যাচাই-বাছাই করে ওষুধের দাম বাড়ানো উচিত। এক কোম্পানির ২৪ পদের ওষুধের দাম কীভাবে বাড়ল এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা থাকা উচিত।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১৫০টিরও কম জেনেরিক ব্র্যান্ডের ২৭ হাজারের বেশি ওষুধ তৈরি হয়। এর মধ্যে মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনসাপেক্ষে বাকি ওষুধের দাম ওষুধ কোম্পানিগুলোই নির্ধারণ করে।

জেএন/এমআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...