দুই বছরেও তদন্তে অগ্রগতি নেই প্রবাসী জাফর হত্যার

0

৫০ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবীতে প্রবাসী জাফর হত্যা মামলায় সিআইডি থেকে রিপোর্ট তলবে আজ আদালতে আবেদন জানাবেন মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ নবী।

পটিয়াতে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রবাসী জাফরকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনা তদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ দেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পটিয়া চৌকির আদালত। ইতিপূর্বে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাগেদা দেয়া সত্বেও তদন্তে অগ্রগতি রিপোর্ট দাখিল করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী বিএইচআরএফ অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান জয় নিউজকে বলেন, গত ২০২০ সালের ২৯ জুলাইয়ে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবিতে ওমান ফেরত প্রবাসী জাফরকে পটিয়ার নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে চকরিয়া হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়। গত ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট আদালতে চকরিয়া হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও চকরিয়া থানার ওসিসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ পুলিশের বিরুদ্ধে একটি চাঁদার দাবীতে অপহরণ পূর্বক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে ২০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। ওই বছরেন ২০ সেপ্টেম্বর সিআইডি আবেদন করে আদালত থেকে আরও এক মাস সময় চেয়ে নেয়। এর পর আজ ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ১২ টি ধার্য্য তারিখ অতিবাহিত হলেও তদন্ত কর্মকর্তা কোন রিপোর্ট দাখিল করতে পারেনি।

অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, আদালত তাগেদা দেয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সিআইডি। এটা নিয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতির বিষয়টি তলব করে একটি আবেদন করা হয় আদালতে। সিআইডির সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে প্রত্যেক তারিখে এক মাসের সময় চায়, কিন্তু সময় চাওয়া শেষ হয় না। এতে সরকারী সংস্থাটিরও ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে। মো. জাফর নামে এক প্রবাসীকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের হয়। কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর সিংহের আদালতে এই অভিযোগে মামলাটি করেন প্রবাসী জাফরের মামা ও বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ নবী। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের সিআইডি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মামলার প্রধান আসামি চকরিয়া উপজেলার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম ও চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কথামৌজা গ্রামের মো. আবদুল আজিজের ছেলে মো. জাফর দীর্ঘদিন ওমানে ছিলেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরুর আগে ওমান থেকে তিনি দেশে ফিরেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে আর বিদেশে যেতে পারেননি। গত ২৯ জুলাই রাতে তাকে বাড়ি থেকে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু প্রবাসীর পরিবার ওই টাকা দিতে পারেননি। এর দুই দিন পর প্রবাসীর পরিবারের কাছে চকরিয়া থানা পুলিশ ফোন করে লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য খবর দেয়। ‘ঘটনাটি অমানবিক। পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতে এসেছেন। এর আগে গত ৩১ জুলাই পটিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সিএনজি চালক মো. হাসানকে চকরিয়া থানা পুলিশ তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। হাসান পৌরসভার পাইকপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে বলে পৌর কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।বাদী পক্ষে আজ অগ্রগতি রিপোর্ট তলব আবেদন শুনানি করবে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইট ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ এর লইয়ারস টিম।

জেএন/এফও/এমআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...