টি-টোয়েন্টি ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ ইংল্যান্ড

0

চাঁদ রাতের মতো যতটা রোমাঞ্চ ছড়িয়েছিল টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল, তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না মাঠের লড়াইয়ে। ভারতকে উড়িয়ে দেওয়ার পর আরও এক জয়ে ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ইংল্যান্ড। তাই ভারতের পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকেও ইংলিশদের কাছে নতি স্বীকার করে আরও একবার আশাহত হয়ে ফিরতে হচ্ছে দেশে।

এমসিজিতে ব্যাট-বলে সমানে সমান লড়াই হবে, তা আন্দাজ করা গিয়েছিল আগেই। তাই মোমেন্টাম পেতে এক চুল ভুল করা যাবে না- এই শর্ত ছিল অলিখিতভাবে। সৌভাগ্যক্রমে টস সেশনে হাসি ফুটে ওঠে ইংল্যান্ডের। অনুমিতভাবেই জস বাটলার ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানকে। বাবর আজমও তখন স্বীকার করেন, তিনি টস জিতলে আগে ব্যাটিং করতে চাইতেন না।

উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে চায়নি কেউই, তাই দুই দলের একাদশই ছিল অপরিবর্তিত। প্রথম বলেই নো বল করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেন বেন স্টোকস। তবে প্রথম ওভারে ৮ রান পাওয়া পাকিস্তান ইনিংসের ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি। ফলে একবার মোমেন্টাম পেয়ে যাওয়া ইংল্যান্ড আর ব্যাট-বলে সমান লড়াই হতে দেয়নি। কারণ শর্ত যে ঐ একটাই- এমন বিগ ম্যাচে করা যাবে না কোনো ভুল!

তাই পাকিস্তানের এমন মলিন ব্যাটিং দিয়ে বিশ্বকাপ জেতা অসম্ভব তো বটেই। এভাবেও বলা যায়- ফাইনালের ২২ গজে এমন ভোঁতা ব্যাটিং যথেষ্ট বেমানান। ২৬ বলে দুই ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটি এনে দিয়েছিল ২৯ রান। ১৪ বলে ১৫ রান করে রিজওয়ান বিদায় নিলে খেই হারায় দল, কারণ মোহাম্মদ হারিস থিতু হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টো বাড়িয়েছেন চাপ। বাবর আজমও নিজের স্বভাবজাত ব্যাটিং করেছেন, যা মোটেও যথেষ্ট ছিল না দলের ভালোর জন্য। ২৮ বল মোকাবেলা করে ৩২ রান করে ফেরেন সাজঘরে, দল তখন বেশ খানিকটা চাপে।

এরপর শান মাসুদের ২৮ বলে ৩৮ ও শাদাব খানের ১৪ বলে ২০ রানের ইনিংস দুটি পাকিস্তানকে নতুন করে বড় পুঁজির স্বপ্ন দেখায়। তবে স্যাম কারান ও আদিল রশিদের ক্ষুরধার বোলিং সেই স্বপ্নে বারংবার আঘাত হেনেছে। ৪ ওভারে ১৫ ডট বল করে মাত্র ১২ রানের খরচায় কারান তিনটি এবং ৪ ওভারে ২২ রানের খরচায় রশিদ দুটি উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের পথে কাঁটা বিছিয়ে দেন। ক্রিস জর্ডানও ছিলেন কার্যকরী। শেষ ওভারসহ ৪ ওভার বল করে তিনিও শিকার করেন দুটি উইকেট, ২৭ রানের খরচায়। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৭ রান।

ছোট পুঁজি নিয়ে বল করতে নেমে পাকিস্তান অবশ্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। তবে তা শুধু ক্ষণে ক্ষণে ব্যাটারদের ব্যর্থতাই তুলে ধরেছে যেন। পাওয়ারপ্লেতে অ্যালেক্স হেলস ও ফিল সল্টকে দ্রুত সাজঘরে ফেরালেও ইংল্যান্ড পথ হারায়নি।
জস বাটলার সেমিফাইনালের মতো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি বটে, তবে চাপের মুখে ১৭ বলে ২৬ রান করে দলকে দৃঢ়তা এনে দেন। এরপর বেন স্টোকস ও হ্যারি ব্রুক খেলছিলেন দেখেশুনে। বড় ম্যাচের একটু চাপ তো থাকেই। তাই ২৩ বলে ২০ রান করে ব্রুক বিদায় নিলে পাকিস্তান ফের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করে।

তবে শাহীন শাহ আফ্রিদি চোটের কারণে ২.১ ওভারের বেশি বল করতে না পারায় বিপাকে পড়ে যায় পাকিস্তান। শেষপর্যন্ত একপেশেভাবেই শেষ হয়েছে ম্যাচ। বোলারদের প্রচেষ্টা তাই ফাঁকা বুলির মতো ছিল, কারণ যা ক্ষতি হওয়ার তা তো ব্যাটাররা আগেই করে দিয়ে গেছেন!

উইকেটে সেট হয়ে স্টোকস শুরু করেন মারকুটে ব্যাটিং, তার সাথে পার্টিতে যোগ দেন মঈন আলী। ইংল্যান্ড জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অনায়াসে। ৫০ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন ৬টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকানো স্টোকস। ইংল্যান্ড জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ১ ওভার ও ৫ উইকেট হাতে রেখে।

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন জিতে নেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটাও। ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরবর্তী আসরের আগপর্যন্ত ইংল্যান্ড একাধারে সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটের চ্যাম্পিয়ন দল।

জেএন/এমআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...