চবিতে সোমবারের পরীক্ষা হচ্ছে কি-না সিদ্ধান্ত বিকালে

0

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। রোববার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে নিউমার্কেট, মুরাদপুর এলাকায় হাতেগোণা সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা ছাড়া আর কোনো গাড়ি ছিল না। এসব বাহনে ভেঙে ভেঙে শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের গন্তব্যে পৌঁছতে হয়েছে হাজারো ভর্তিচ্ছুকে। ভর্তিচ্ছুদের জন্য বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা হয়নি।

সোমবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি হবে না- এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে রোববার বিকাল ৩টায় জরুরি বৈঠকে বসছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু জয়নিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলায় আমি নিউমার্কেট-বিশ্ববিদ্যালয় রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বলেছিলাম। কিন্তু সিএনজি অটোরিকশা চালক ও অন্যান্য পরিবহন শ্রমিকরা বাস ভাংচুর করেছে। ফলে বাস মালিকরা গাড়ি সড়ক থেকে তুলে নিয়েছে। বাস ভাংচুরের ঘটনায় আমি পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে রোববারের পরীক্ষার্থীরা শনিবারই (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম এসে পৌঁছায়। সোমবার (২৯ অক্টোবর) যাদের পরীক্ষা রয়েছে তাদের রোববার চট্টগ্রাম আসার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু দেশজুড়ে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সোমবারের পরীক্ষার্থীরা চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হতে পারেনি।

এদিকে শনিবার সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন-চট্টগ্রামের সভাপতি রবিউল মাওলা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, রোববার থেকে শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিবহন ধর্মঘটের আওতামুক্ত থাকবেন। বাস-মিনিবাস চলবে। কিন্তু তার ঘোষণা অনুযায়ী পরিবহন চলেনি। নগরের নিউমার্কেট-বিশ্ববিদ্যালয় ‍রুটে কয়েকটি মিনিবাস চলাচল করলেও সড়কজুড়ে ছিল রিকশার আধিপত্য। পথে পথে শ্রমিকরা পরিবহন চলাচলে বাধা দিয়েছে। এছাড়া নিউমার্কেট থেকে অন্যান্য রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় ভর্তিচ্ছুরা নিউমার্কেট আসতে পারেননি সময়মত।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, আমরা শুনেছিলাম ভর্তিচ্ছুদের জন্য বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু বাস্তবে হাতেগোণা কয়েকটি বাস ছাড়া কোনো গাড়ি ছিল না। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে পায়ে হেঁটে, রিকশায় চড়ে শহর থেকে অনেক দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে আমরা বেলা ৩টায় বৈঠক ডেকেছি। সবদিক বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

 

জয়নিউজ/অভি/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...