সাপ্তাহিক বাজার দর: স্বস্তি নেই ক্রেতার

বাড়তি দাম মাছ-মাংসে: চাল-ডাল-আটা-ময়দা-সয়াবিনও ঊর্ধ্বগতি

0

চট্টগ্রাম মহানগরীর খুচরা বাজারগুলোতে গেল এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশ মাছের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।

কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে প্রায় সকল প্রকার মাছের। সস্তার তালিকায় থাকা তেলাপিয়া-পাঙ্গাশের দামও এ সপ্তাহে বাড়তি। মাছ কিনতে গিয়ে বলা যায় অধিকাংশ ক্রেতাই ফিরছেন খালি হাতে।

বিক্রেতারা বলছেন, মাছের সরবরাহ কিছুটা কম। পরিবহন খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তাই মাছেরও দাম বেড়েছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঝারি আকৃতির প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকা। মাঝারি পাঙ্গাশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ টাকা। এক কেজি রুই ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা, যা আগে ছিল ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা।

দেড়-দুই কেজি রুই বিক্রি হচ্ছে তিনশ টাকার ওপরে আর বড় রুইয়ের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। বড় কাতলা মাছ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। মাঝারি কার্প মাছ প্রতি কেজি ২২০ টাকা। ছোট মাছের দামও বেড়েছে। কাঁচকি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, চাষের কই মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও ছোট চিংড়ি ৬০০ টাকা।

ইলিশের দাম কিছুটা কমে কেজিপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

চাক্তাই ফিশারিঘাটের খুচরা মাছ ব্যবসায়ি লিটন জানান, ‘মাছের সরবরাহ কমার কারণে আড়তেই মাছের দাম বেশি। এ জন্য খুচরা বাজারে সব ধরনের মাছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।

বক্সিরহাট মাছ বাজারের ব্যবসায়ী শহীদুল জানালেন খাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় মাছ চাষিদের খরচ বেড়ে গেছে। তাঁরাও বেশি দামে মাছ বিক্রি করছেন।

কাজির দেউড়ি বাজারে মাছ কিনতে এসে খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন লাকি বেগম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত। মাছের যে দাম বলছে তাতে ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এক বেলায় মাছ দিয়ে ভাত খেতে যদি ৫শ টাকার উপরে খরচ হয় তবে বেতন পােই কতো?

কোন সুখবর নেই অন্যান্য পণ্যেরও অন্য সব নিত্যপণ্যেও সুখবর নেই। চাল-ডাল, আটা-ময়দা, সয়াবিন তেল কোনো কিছুতে ক্রেতার স্বস্তি নেই। আদা-রসুন কিনতে ভোক্তাকে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের কথা হয় চাকরিজীবি সোহানের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, চাল, তেল, মাছ, মাংসসহ বাজারে এমন কোনো পণ্য নেই, যা কয়েক দফা দাম বাড়েনি। দফায় দফায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় জীবন যেন আর চলছে না। কারণ আমাদের আয় তো বাড়ছে না।

সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি খোলা আটা কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত আটা আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের আটার প্যাকেট ১২৫ টাকা।

মোটা ব্রি ২৮ চাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিনিকেট বলে পরিচিত চিকন চাল প্রতি কেজি ৭৫ টাকা ও নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি।

চিকন মসুরের ডাল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। মোটা মসুরের ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। আমদানি করা আদা প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি আদা ১২০ টাকা।

আমদানি করা রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ও দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা। ডিম আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ টাকা।

সবজির দামও পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি শসা ৬০ টাকা, পটোল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, ছোট ফুলকপি ৫০ টাকা, শিম ১০০ থেকে ১১০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১১০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগি। ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৯০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা।

জেএন/পিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...