প্রশ্নফাঁস: দিনাজপুর বোর্ডে ৪ বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত

0

চলমান এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে চারটি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চলতি এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম এবং দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্র সচিবসহ তিন শিক্ষককে আটকের পর দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে এই ৪ বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

যদিও অনিবার্য কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তবে একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আগেই গণিত এবং বিজ্ঞান বিভাগের ৪টি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। তাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এসব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’

সোমবার ইংরেজি প্রথম পত্র এবং মঙ্গলবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার আগের রাতে এই দুই বিষয়ের হাতে লেখা দুটি প্রশ্নপত্র পরীক্ষার পর মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়; যা মঙ্গলবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

বলা হচ্ছে, ভূরুঙ্গামারী নেহাল উ‌দ্দিন পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন দুটি ফাঁস হয়। হাতে লেখা এসব প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগের রাতেই হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের হাতে চলে যায়।

বিষয়টি নজরে আসলে নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উ‌দ্দিন পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক রাসেল আহমেদ এবং ইসলাম শিক্ষা বিষ‌য়ের সহকারী শিক্ষক জোবা‌য়ের‌কে আটক করে পুলিশ।

নেহাল উ‌দ্দিন পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসন পড়েছে এমন একজন শিক্ষার্থীর বর্ণনায়, ‘আমি এই কেন্দ্র থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। হল রুমে অনেক শিক্ষার্থী আলোচনা করে, তারা ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় প্রশ্নের উত্তরপত্র পেয়েছে। এভাবে যদি পরীক্ষার প্রশ্ন আউট হয়, তাহলে আমরা ভালো পরীক্ষা দিয়ে কি লাভ?’

কলেজের ইংরেজি প্রভাষক মাইদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘আমি এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াই। সেখানকার এবং কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আমার কাছে হাতে লেখা প্রশ্ন নিয়ে আসে সমাধানের জন্য। পরে জানতে পারি কুড়িগ্রাম, রংপুর, ভূরুঙ্গামারী থেকে বিভিন্ন জনের মাধ্যমে এগুলো পেয়েছে। বিষয়টি পরে স্থানীয় প্রেসক্লাবসহ প্রশাসনকে অবহিত করি।’

এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উ‌দ্দিন পাইলট বা‌লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক রাসেল আহমেদ এবং ইসলাম শিক্ষা বিষ‌য়ের সহকারী শিক্ষক জোবা‌য়ের‌কে রাতে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিছু সময় পর ওই কেন্দ্র সচিবসহ তিন শিক্ষককে আটকের কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান।

ভূরুঙ্গামারী সহকারী পু‌লিশ সুপার মোর‌শেদুল হাসান বলেন, ‘আটক তিন শিক্ষ‌কের বিরু‌দ্ধে প্রশ্ন ফাঁ‌সের অ‌ভি‌যোগ আনা হয়েছে। মামলা হ‌লে তদন্ত ক‌রে পু‌রো‌ বিষয়‌টি উদঘাটন করা হ‌বে।’

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর জহির উদ্দীন  বলেন, ‘কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ৪টি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জড়িত কেন্দ্র সচিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে ট্যাগ অফিসার ও কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র: নিউজবাংলা

জয়নিউজ/পিডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...