দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নাইট সাফারি পার্ক হচ্ছে চট্টগ্রামে

মানুষ খাঁচায় আর বণ্যপ্রাণী থাকবে উন্মুক্ত

0

মাত্র দু সপ্তাহ আগেও যেখানে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিলো, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত সেই জঙ্গল সলিমপুরের চিত্র এখন দিন দিন বদলে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে সেখানে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুরের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে এক গুচ্ছ পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সকল সরকারি দ্প্তর শীঘ্রই সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

তাছাড়া বাঘ, জিরাফ, হাতি, সিংহ, চিতাবাঘ, ডোরাকাটা হায়েনা, বোঙ্গো, আফ্রিকান মহিষ, ট্যাপির, গণ্ডার, সোনালি কাঁঠাল এবং আরো নানা জাতির হিংস্র বণ্যপ্রাণীরা সত্যিকারের জঙ্গলে রাতের বেলায় কিভাবে অবস্থান করে সে রহস্য নির্ভয়ে সাধারণ মানুষকে স্বচোক্ষে দেখার সুব্যবস্থা করতেও মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এ জেলা প্রশাসক।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন জঙ্গল সলিমপুরে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নাইট সাফারি পার্ক নির্মাণে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হচ্ছে।

জয় নিউজকে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের মান্দাই’র নাইট সাফারি পার্ক সম্পর্কে অনেকেই হয়তো জানেন। রিভার ওয়ান্ডার্স, সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা এবং জুরং বার্ড পার্কসহ মান্দাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অংশ।

প্রাণীদের জন্য সেখানে এমন একটি চমত্কার নাইট সাফারি পার্ক তৈরি করা হয়েছে যেখানে প্রাণীরা রাতে সক্রিয় জীবনযাপন করে। বসবাসকারী সমস্ত প্রাণী কার্যত অদৃশ্য বাধাসহ একটি খোলা সবুজ এলাকায় থাকতে পারে।

পার্কের পুরো ঘের বরাবর, জাল রয়েছে, যা ক্লোভেন-হুফড। প্রাণীদের তাদের অঞ্চল ছেড়ে যেতে দেয় না। জাগুয়ার এবং চিতাবাঘের মতো শিকারীরাও যেন লম্বা গাছে আরোহণ করতে পারে, সেজন্য কাচের বাধা স্থাপন করা হয়েছে।

চিড়িয়াখানাটি সমস্ত এলাকা চাঁদের আলোর প্রভাব তৈরি করে এমনভাবে আলোকিত হয়েছে যাতে এটি প্রাণীদের স্বাভাবিক রাতের জীবনকে বিরক্ত না করে।

সিঙ্গাপুরের মান্দাইতে অবস্থিত বিশ্বের প্রথম সে নিশাচর নাইট সাফারি পার্কটি এবং ওই সিস্টেমকে আমরা অনুসরণ করব। তার আদলে ৪০ একর জায়গাজুড়ে চট্টগ্রামেও একটি নাইট সাফারি পার্ক গড়ে তোলা হবে।

প্রাথমিকভাবে নির্মাণ ব্যয় ২০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, এর মধ্যে ৩ কোটি টাকা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।

এ প্রকল্পের জন্য একটি প্রকৌশলী টিম গত মঙ্গলবার জঙ্গল সলিমপুরে পরিদর্শণে গেছেন জানিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে এবং ২০২৩ সালের শেষ দিকে এ পার্ক চালু করার আশা করছেন জেলা প্রশাসক।

তিনি আরও বলেন, সাফারি পার্কে বাঘ, সিংহ, জলহস্তী, জিরাফ, উট, ক্যাঙ্গারু, লামাসহ বিভিন্ন প্রজাতির আরও পশুপাখি সংগ্রহ করে বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণ করা হবে। গবেষণার মাধ্যমে প্রাণি সংরক্ষণে ভূমিকা ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান জেলা প্রশাসক।সাফারি পার্ক

সাফারি পার্কটি চালু হলে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে আলাদা শোয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। ভেতরে এমনভাবে আলো-আঁধারী পরিবেশ তৈরী করা হবে, যাতে দর্শকরা বন্যপ্রাণী রাতের বেলা কিভাবে চলাচল করে বা খাবার খায় তা সরাসরি দেখতে পারেন।

গণমাধ্যমকে এতথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ। তিনি বলেন, সাফারি পার্কটিতে বন্যপ্রাণীরা প্রাকৃতিক পরিবেশে পুরোপুরি উন্মুক্ত অবস্থায় থাকবে। দর্শনার্থীদের খাঁচার আদলে তৈরি একটি গাড়িতে করে পার্কে প্রবেশ এবং উম্মুক্ত অবস্থায় বণ্যপ্রাণীদের দেখার ব্যবস্থা করা হবে।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ইকো ট্যুরিজমের উন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা, গবেষণা ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নাইট সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে ইতোমধ্যেই সাফারি পার্ক নির্মাণে নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে বললেন জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান।

উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুরে চট্টগ্রাম কারাগার স্থানান্তরের পাশাপাশি স্পোর্টস ভিলেজ, জনসাধারণের চিকিৎসার জন্য হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল, একটি সাফারি পার্ক, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, একটি নান্দনিক মসজিদ, উচ্চ শক্তির বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র ও পাহাড় ব্যাবস্থাপনা কমিটির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি নিদিষ্ট জায়গায় ছিন্নমূল জনসাধারণের পুনর্বাসন করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

জেএন/পিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...