ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত আরেকজনের মৃত্যু

0

মীরসরাইয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হাটহাজারীর স্কুল শিক্ষার্থী তাসমির হাসান পাবেল অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৩ জনে।

শনিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাসমির।

নিহত তাসমির হাটহাজারীর যুগিরহাট খন্দকিয়া এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাব রেজিস্ট্রার বাড়ির মৃত পারভেজের ছেলে। সে কে.এস নজুমিয়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

একের পর এক মৃত্যুর সংবাদ যুগিরহাট খন্দকিয়া এলাকায় পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় শুরু হয় শোকের মাতম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলার চিকনদন্ডী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমদ। তিনি বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল তাসমির হাসান। তার মাথায় বেশি আঘাত ছিল এবং ঘাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকে তার পুরো শরীর প্রায় অবশ ছিল। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় গত ৩১ জুলাই তাকে আইসিইউতে রাখা হয়।

তাসমিরের মামাত ভাই মনছুর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ভাইকে আর বাঁচাতে পারলাম না। সে গত ৭ দিন ধরে আইসিইউতে ছিল। চলে যাওয়ার আগে তার সাথে শেষ কথা হয়। সে খুবই অনুচ্চ স্বরে কথা বলছি।

নিহতের চাচা মো. টিপু জানান, রবিবার খন্দকিয়া ছমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঞ্জুমানে খুদ্দামুল মুসলেমিন বাংলাদেশের (একেএমবি) অফিস সমন্বয়ক মো. আবদুল্লাহ বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে করে তাসমিরের মরদেহ গ্রামে নিয়ে আসে। গোসল ও দাফন-কাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১১ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এর আগে মিরসরাইয়ের নিহত ১২ জনের মরদেহ গোসল ও দাফন-কাফন আমাদের টিমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

এর আগে গতকাল (৫ আগস্ট) দুপুরে আয়াতুল ইসলাম আয়াত নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের বড়তাকিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের হাটহাজারী উপজেলার খন্দখিয়া এলাকার ১১ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ৭ জনকে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

জেএন/কেকে

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...