ফুট ওভারব্রীজ থাকার পরও ঝুকিপূর্ণ পারাপারে বাড়ছে দুর্ঘটনা

জনসচেতনতায় নেই কার্যকরী পদক্ষেপ

0

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই অংশের ব্যস্ততম ৪টি বাজারে পথচারী পারাপারে স্থাপন করা হয়েছে ৪টি ফুট ওভারব্রীজ। উদ্দেশ্য নিরাপদ পথচারী পারাপার, অনাকাঙ্খীত দূর্ঘটনা ও মৃত্যু প্রতিরোধ।

কিন্তু এসব ফুট ওভারব্রীজ নিরাপদ পারাপারে উপযুক্ত ভুমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারন হিসেবে দেখা গেছে উপজেলার বারৈয়ারহাট ও নিজামপুর এলাকায় দুটি ফুট ওভারব্রীজ অপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নির্মান করা হয়নি।

এছাড়া বড়দারগারহাট ও মিরসরাই বাজারের দুটি ফুট ওভারব্রীজ সচেতনাতার অভাবে শতভাগ মানুষ তা ব্যবহার করছে না।

মিরসরাই ও বড়দারোগার হাট বাজারে স্থাপিত দুটি ফুট ওভার ব্রীজ সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, রাস্তা পারাপারে বেশির ভাগ মানুষের অনিহা। ঝুকি নিয়ে গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়ে রাস্তার পার হচ্ছে অনেকেই।

এতে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে, মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে অনেকে। তবু যেন কারো টনক নড়ছে না। রাস্তা পারাপারে ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহারে সাধারন মানুষের মাঝে কোন সংস্থা বা কোন কর্তৃপক্ষ সচেতনতা মুলক প্রচার প্রচারণাও চালাচ্ছে না বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।

এ ব্যাপারে মিরসরাই পৌর মেয়র ও মিরসরাই বাজার কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা যখন রাস্তার পার হই তখন কেউ ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহার না করলে তাকে ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহার করতে বলি।

এছাড়া সামাজিক বিভিন্ন সভা সমাবেশে ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করবো। সবাই সচেতন করলে মানুষ ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহার করবর। এতে হতাহতের সংখ্যা কমে আসবে বলে আশাবাদ তার।

উপজেলার নিজামপুর সরকারী কলেজ এলাকায় স্থাপিত ফুট ওভারব্রীজটি অপরীকল্পিত ও যথাস্থানে স্থাপন করা হয়নি বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

নিজামপুর কলেজের ছাত্র শিক্ষার্থীরা অভিমত প্রকাশ করেন বলেন, নিজামপুর কলেজের ফুট ওভার ব্রীজটা প্রয়োজন ছিল কলেজের প্রধান ফটক ও নিজামপুর-সাহেরখালী সড়কের মাঝামাঝি স্থানে। কিন্তু সেটি না করে বাজারের একেবারে উত্তর পাশে ৪শ গজ দূরে স্থাপন করা হয়েছে।

ফলে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ দূরত্বের কারনে সময় বাচাতে ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহার না করে শটকাট রাস্তা পার হতে ঝুকি নিয়ে ডিভাইডারের ফাঁকা অংশ ব্যবহার করছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মুখি দ্রুত গতির গাড়িতে পৃষ্ট হয়ে কলেজের ছাত্র শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

অন্যদিকে উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা বারৈয়ারহাট বাজারের ফুট ওভারব্রীজ টি যথাস্থানে স্থাপিত হয়নি বলে মত প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ি ও সাধারণ মানুষ।

তারা বলেন, ফুট ওভারব্রীজটি প্রয়োজন ছিল ট্রাফিক বক্স এলাকায় স্থাপন করা কিন্তু এখান থেকে ৪শ গজ দূরে অপরিকল্পিত ভাবে ফুট ওভারব্রীজ স্থাপনের কারনে সারাদিনে ২জন মানুষ তা ব্যবহার করে না।

ট্রাফিক বক্স এলাকায় শত শত মানুষ গাড়ি থামিয়ে ঝুকি নিয়ে রাস্তা পার হয়। ফলে একদিকে অব্যবহৃত ফুট ওভার ব্রীজে মাদক সেবিদের নিরাপদ আশ্রয় স্থল হয়ে দাড়িয়েছে অন্য দিকে গাড়ি থামিয়ে ঝুকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় দূর্ঘটনা ঘটছে ।

বারৈয়ারহাট পৌর মেয়র রেজাউল করিম খোকন জানান, আমাদের সমাজের মানুষকে যতোই বুঝান কাজ হবেনা। তাদেরকে একটা সিষ্টেমের মধ্যে দিয়ে পরিচালানা করতে হয়।

বারৈয়ারহাট বাজার ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়িক কারনে সড়কের ডিভাইড়ার তুলে দিয়ে মানুষকে সড়কের মাঝখান দিয়ে ঝুকি নিয়ে চলাচল করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আমরা পৌরসভা থেকে সড়ক ও জনপদকে (সওজ) বারবার চিঠি দিয়েছি যাতে ডিভাইড়ার স্থাপন করা হয়। ডিভাইড়ার স্থাপন করে দিলে মানুষ বাধ্য হবে ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহার করতে এতে হতাহতের সংখ্যা কমে আসবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ জানান, কোন সংস্থা থেকে ডিভাইড়ার স্থাপনের জন্য কোন চিঠি প্রেরণ করা হয়নি। আমরা রোড় সেফটি নিয়ম অনুযায়ী ফুট ওভারব্রীজ ও ডিভাইড়ার স্থাপন করেছি।

পাবলিক যদি আইন ভঙ্গ, আইন পালনে সচেতনতা সৃষ্টি করা ও জরিমানা করার দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের- আমাদের নয়। তারা সচেতনাতা সৃষ্টি করবে প্রয়োজনে জরিমানা করবে।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি আলমগীর জানান, পাবলিক ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহার না করলে সে ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আইন প্রয়োগ করার কোন বিধান নেই। আমরা যানবাহন নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব প্রাপ্ত এর বাইরে কোন কাজ আমরা করতে পারিনা।

সড়ক পারাপারে মৃত্যু ঝুকি কমাতে বা সচেতনতা সৃষ্টি করতে কোন কর্তৃপক্ষই দায় স্বীকার করতে রাজি নয়।

তবে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, যেখানে মানুষের জীবন জড়িত সেখানে সরকারী সকল সংস্থায় দায় রয়েছে। কেউ এটাকে এড়িয়ে যেতে পারে না। যার যার অবস্থান থেকে সকলের উচিৎ সচেতনতা সৃষ্টি করা।

এছাড়া তিনি বলেন, আমি জেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করবো। সওজ থেকে যে রোড় সেফটি ডিভাইড়ার স্থাপন করা হয়েছে তার উপযুক্ত নয়। সেগুলি টপকে মানুষ পার হয়ে যেতে পারে।

তাই বাজার এলাকায় উচু সেফটি ডিভাইড়ার স্থাপনও প্রয়োজনে নেট ব্যবহার করে নিরপ্তা বেষ্টনি তৈরি করে ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহারি মানুষকে বাধ্য করতে হবে ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এতে সড়কে হতাহতে সংখ্যা কমানো সম্বব বলে মনে করি।

জেএন/পিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...