চলন্ত বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ: আরও ২ আসামি গ্রেপ্তার

মামলা ডিবিতে

0

টাঙ্গাইলে ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাসে তিন ঘণ্টাব্যাপী ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটিতে মোট তিনজন গ্রেপ্তার হলো।

অন্যদিকে বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনাটি আন্তজেলাব্যাপী বিস্তৃত থাকায় মধুপুর থানা-পুলিশের কাছ থেকে মামলাটি ডিবি (উত্তর) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ শুক্রবার ভোরে একাধিক স্থানে গোয়েন্দা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি দুজন হলেন আব্দুল আওয়াল (৩০) ও নুরুন্নবী (২৬)। আব্দুল আওয়াল গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে এবং নুরুন্নবী কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ধোনারচর গ্রামের বাহাজ উদ্দিনের ছেলে।

টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ছেড়ে আসা ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে গাজীপুরের সূত্রাপুর টান কালিয়াকৈর এলাকা থেকে আব্দুল আওয়ালকে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যমতে কালিয়াকৈরের সোহাগপল্লী এলাকা থেকে সকাল ৯টায় নুরুন্নবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসেন জানান, বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের বিষয়টি অনেক বড় ব্যাপার। এই মামলার পরিধি অনেক বিস্তৃত। পুরো বিষয়টি পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার দেখাশোনা করছেন। তাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যারাতে মধুপুর থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে অপারেশনের সমস্ত দায়িত্ব পালন করবেন টাঙ্গাইলের ডিবির (উত্তর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন।

মুরাদ হোসেন বলেন, ‘আমরাও মামলাটিতে সার্বিক সহযোগিতা করব। সাক্ষ্য-প্রমাণপত্রসহ আইনগত দিকের সহযোগিতা করব। ডিবি পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আসামিদের আদালতে হাজির করে বিচারিক কাজে সহযোগিতা করবে।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ এলাকা থেকে যাত্রীবেশে ওঠা ডাকাতদল বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে ডাকাতরা যাত্রীদের হাত, মুখ, চোখ বেঁধে তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন, টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। পরে ডাকাতেরা এক নারী যাত্রীকে পালাক্রমে ছয়জনে ধর্ষণ করে। বাসটি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের রক্তিপাড়া এলাকায় গতি কমিয়ে নেমে অন্য একটি পরিবহনে পালিয়ে যায় ডাকাতেরা। রক্তিপাড়া বাসস্ট্যান্ডের দেড় শ গজ উত্তরে চলন্ত বাসটি মসজিদের পশ্চিম পাশে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এলাকাবাসী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

জেএন/কেকে

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...